Police Welfare

রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়ে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড, ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী

চলতি মাসের ৬ মে ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সদস্যদের বিভিন্ন থানা এবং জেলায় তাঁদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন ডিআইজি প্ল্যানিং ও ওয়েলফেয়ার। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, এই সমস্ত আধিকারিকেরা সদস্যরা সরকারি কাজ ঠিক মত করছেন না।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ০৬:০৭

আর অস্থিত্ব রইল না পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের। এই বোর্ড একটি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। তাই এই বোর্ড ভেঙে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সোমবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করবে রাজ্য সরকার।

শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে এই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার কথা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রথমে ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই হয়েছিল। পরে পরে এটা রাজনৈতিক দলের (তৃণমূলের) শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল বা সেটাকে পরিণত করা হয়। এর মাধ্যমে পুলিশদের সার্বিক উন্নয়ন কতটা হয়েছে জানি না, এতে অবৈধ এক্সটেনশন পাওয়া শান্তনু সিংহ বিশ্বাস এবং বিজিতাশ্ব রাউতদের লাভ হয়েছে। এতে আরও কেউ থাকতে পারে। তবে আমি তাঁদের নাম নেব না। আমি তাঁদের নাম উচ্চারণ করলে তাঁরা হিরো হয়ে যাবে। আমি উদাহরণ হিসেবে দু’জনের নাম নিলাম।”

পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের আহ্বায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে অবৈধ জমি দখল মামলায় ইডি গ্রেফতার করেছে। পুলিশ মহলে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। শোনা যায়, এই সংগঠন করলেই ভালো পোস্টিং পাওয়া যায়। রশিদ ছাড়া পুলিশকর্মীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তৃণমূলের হয়ে প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে বিজিতাশ্ব রাউতের বিরুদ্ধে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মা, অভিভাবক’ বলে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিলেন। এমনকী, শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সিনিয়র পুলিশকর্তাদের হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে।

সিপিএম জমানায় একাধিক উগ্র ট্রেড ইউনিয়ন ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল। তার ফলে যেমন কর্মসংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে তেমনই কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সেই কথাও উত্থাপন করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা বাম আমলের মত চাই না। নন-গেজেটেড পুলিশ কর্মীদের সংগঠনও ছিল। কিন্তু সেটাও সিপিএমের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। ওটাও আমরা চাই না। কারণ পুলিশ একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ সংস্থা। এখানে ধর্মঘট, হরতাল, নির্দেশের বাইরে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেবে। এটা পুলিশের ক্ষেত্রে হয় না। তাই আমরাও ওই নন-গেজেটেড এবং উগ্র ট্রেড ইউনিয়নের ধারণাটাও বাদ দিয়ে দেব।” এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরবর্তীতে ওয়েলফেয়ার তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেটাও রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। ওটাই নিয়মে পরিণত হয়েছিল।”

এর বিকল্প হিসেবে সরকার কী করবে তা-ও জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “সমস্ত সিনিয়র পুলিশ অফিসার, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশদের সংগঠন— তাঁদের সবার কাছ থেকে মতামত নেব। সেই মতামত স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতর সংগ্রহ করবে। তার পরে মুখ‍্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরা মন্ত্রীসভায় একটি প্রস্তাব দেবেন। তা আমরা পাস করে দেব। আপাতত রাজ্য সরকার এই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে তা আগামী সোমবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেবেন।”

নির্বাচনের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের নেতা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ বার ক্ষমতায় আসার পরে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বর্তমানের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ মে ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সদস্যদের বিভিন্ন থানা এবং জেলায় তাঁদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন ডিআইজি প্ল্যানিং ও ওয়েলফেয়ার। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, এই সমস্ত আধিকারিকেরা সদস্যরা সরকারি কাজ ঠিক মত করছেন না। মোট ১৯জন পুলিশ কর্মীকে ফেরানো হয়েছিল নিজ নিজ দায়িত্বে।


Share