Fuel Crisis

ডিজ়েল পাচার রুখতেই বিপাকে মহিলা এএসআই! অন্ডাল থানার ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং এডিপিসির পুলিশ কমিশনারের কাছে ইমেলের মাধ্যমে সুপ্রিয় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

গাড়ি সমেত দুই চালককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১১:৩৯

ডিজ়েল পাচার রুখতে গিয়েই বিপাকে পড়লেন অন্ডাল থানার এক মহিলা পুলিশকর্মী। আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এএসআই সুপ্রিয়া মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বেআইনি তেল পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে থানার হেল্প ডেস্কে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পুলিশ মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে ।

অভিযোগ, কয়েকদিন আগে রাতে হরিশপুর ও টপলাইন এলাকার মাঝামাঝি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুপ্রিয়া একটি মারুতি ভ্যান আটক করেন। সেই গাড়ি থেকে ১১টি জ্যারিকেন ভর্তি প্রায় সাড়ে পাঁচশো লিটার ডিজ়েল উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর দাবি, শোনপুর বাজারি কোলিয়ারি এলাকা থেকে চুরি করে ওই ডিজ়েল পাচারের চেষ্টা চলছিল।

সুপ্রিয়ার দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই থানার ওসি গোপাল পাত্র তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। তাঁকে নিয়মিত তাঁর নিজ ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁকে থানার হেল্প ডেস্কে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁর দাবি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং এডিপিসির পুলিশ কমিশনারের কাছে ইমেলের মাধ্যমে সুপ্রিয় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কিছু প্রমাণও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার রাতে আটক গাড়িতে থাকা দুই যুবকের পাশাপাশি মুন্না সিং নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগ, জেরার সময় মুন্না দাবি করেন যে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তেল পাচারের কারবার চলছে। সেই বেআইনি ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য থানার ওসির কাছে নিয়মিত টাকা পৌঁছে দেওয়া হত। আরও অভিযোগ, ওসির গাড়ির চালক পাপ্পু যাদব সেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যা ঘিরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, অন্ডাল থানার ওসি গোপাল পাত্র সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি সত্যিই তেল পাচার আটকানো হয়ে থাকে, তাহলে উদ্ধার হওয়া তেল কোথায় গেল। কেন কাউকে গ্রেফতার করা হলো না। এই সমস্ত প্রশ্নও তিনি তোলেন। সুপ্রিয়াকে হেল্প ডেস্কে বসানোর কারণ হিসেবে ওসির দাবি, উপরমহলের নির্দেশ অনুযায়ী থানায় একজন মহিলা পুলিশকর্মীকে হেল্প ডেস্কে রাখতে বলা হয়েছে। থানায় অন্য কোনও মহিলা কনস্টেবল ছিল না। তাই সুপ্রিয়াকেই সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজের গাড়িচালক পাপ্পু যাদব সম্পর্কে তাঁর দাবি, স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে বহুদিন আগেই সে গাড়ি চালানোর কাজ ছেড়ে দিয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের অন্দরেই চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে এখন প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।


Share