Child Death

সরকারি হাসপাতালে অদলবদল হল শিশু, বারাসত হাসপাতালের ঘটনার ক্ষোভ দুই পরিবারের

অভিযোগ, এক পরিবারের কন্যাসন্তান ভুলবশত অন্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বারাসাত মেডিকেল
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত
  • শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৩:০৬

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশু বদলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুই পরিবারের সদস্যরাই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আমডাঙার বাসিন্দা শফিকুল শেখ। তাঁর সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে ভুলবশত দেগঙ্গার এক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রসবের পর হাসপাতালের তরফে দেগঙ্গার পরিবারকে জানানো হয়েছিল তাঁদের পুত্রসন্তান হয়েছে। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত কলকাতা শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি শিশুটিকে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছোন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

এরপর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে শেষকৃত্যের প্রস্তুতির সময় পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে, শিশুটি আসলে কন্যাসন্তান। বিষয়টি বুঝতে পেরে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখনই গোটা ঘটনায় নতুন মোড় আসে। দেগঙ্গার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁদের বলা হয়, “ভুল হয়েছে। কন্যাসন্তানটি ফিরিয়ে দিন, পরে এসে নিজেদের ছেলে নিয়ে যান।”

অন্য দিকে, নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শফিকুল শেখ। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতির কারণেই তিনি সন্তানকে হারিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশুদের শনাক্তকরণের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন গুরুতর ভুল সম্ভব হল।

ঘটনার জেরে দুই পরিবারই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। বরং চরম গাফিলতির ঘটনা। অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে তাঁরা দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

এ বিষয়ে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা জানান, “ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে এই ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Share