Fake Toll Racket

বাস টার্মিনাসেই চলছিল অবৈধ টাকা তোলা! ‘উত্তর মালদহ সমিতি’র ভুয়ো কুপন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

অভিযোগ, বাইরের এলাকা থেকে আসা পাথর, বালি-সমেত বিভিন্ন পণ্যবাহী লরিকে চাঁচলের কাজী নজরুল বাস টার্মিনাস এলাকায় দাঁড় করিয়ে ভুয়ো কুপন ধরিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছিল।

ভুয়ো কুপন
নিজস্ব সংবাদদাতা দিয়ে তোলাবাজি, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৯:১২

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে তোলাবাজি ও অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে মালদহের চাঁচল শহরের কাজী নজরুল বাস টার্মিনাসে ভুয়ো কুপন দেখিয়ে প্রকাশ্যে টাকা তোলার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে মালদহ জেলা পুলিশ প্রশাসন। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ, বাইরের এলাকা থেকে আসা পাথর, বালি-সমেত বিভিন্ন পণ্যবাহী লরিকে চাঁচলের কাজী নজরুল বাস টার্মিনাস এলাকায় দাঁড় করিয়ে ভুয়ো কুপন ধরিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। জানা গিয়েছে, প্রতিটি লরি থেকে নিয়ম করে ৫০ টাকা করে নেওয়া হত। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এই অবৈধ তোলাবাজি চলছিল।

শুক্রবার মালদহ থেকে আসা একাধিক লরির কাছ থেকে টাকা তোলার সময় ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে দেখা যায়। ক্যামেরার সামনে তিনি টাকা তোলার অভিযোগ অস্বীকার করেননি। যদিও নিজের সাফাইয়ে তাঁর দাবি, “ড্রাইভারদের সুবিধার জন্যই এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।” তবে কার নির্দেশে বা কোন সংগঠনের নাম করে এই টাকা তোলা হচ্ছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কুপনে 'উত্তর মালদহ সমিতি' নাম লেখা থাকলেও সেখানে কোনও বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল না। ফলে ভুয়ো কুপনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ‘টোল’-এর নামে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁচলের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপির মালদহ জেলা সহ-সভাপতি রতন দাস নাম না করে বলেন, “এটা দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে এখন আর বেশিদিন এসব চলবে না। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়া।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন জানিয়েছেন, “এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের কোনও যোগ নেই। আইন আইনের পথেই চলবে। প্রশাসন তদন্ত করে সত্য সামনে আনুক।”

নবান্নের কড়া বার্তার পর এই ঘটনা সামনে আসতেই সক্রিয় হয়েছে চাঁচল থানার পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share