Fuel Price Hike

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব রাজ্যে, পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলির

সেখানে তাঁরা জানান, অতীতেও বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকার কমিটি গঠন করলেও সেই সুপারিশ কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়ালে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১১:১০

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানির দামে লাগামছাড়া বৃদ্ধি, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত। এরই মধ্যে শুক্রবার ফের লিটার প্রতি তিন টাকা ১১ পয়সা বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে বাসভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের দ্বারস্থ হল বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলি।

শুক্রবার একাধিক বাসমালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পরিবহণ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা জানান, অতীতেও বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকার কমিটি গঠন করলেও সেই সুপারিশ কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়ালে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

বাসমালিক সংগঠনের তরফে পরিবহণ দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেষবার ২০১৮ সালে বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৬৮ টাকা। অথচ গত আট বছরে আর ভাড়া বাড়েনি। বর্তমানে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে লিটার প্রতি ৯২ টাকা চার পয়সা। অর্থাৎ জ্বালানির খরচ প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। তবুও সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ এবং ২০২১ সালে ভাড়া পুনর্বিবেচনার জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গণপরিবহণ ব্যবস্থা ক্রমশ সংকটের মুখে পড়ছে বলে দাবি বাসমালিকদের। তাঁদের বক্তব্য, শুধু জ্বালানির দামই নয়, যন্ত্রাংশ, বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মচারীদের বেতন সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান ভাড়ায় বাস চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নামমাত্র ভাড়ায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে পরিষেবা দিয়ে চলেছে বেসরকারি বাস। একইসঙ্গে হাজার হাজার বাসমালিক ও শ্রমিকের জীবিকাও এই পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তাই গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে বাঁচাতে অবিলম্বে ন্যায্য ভাড়া কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।


Share