NEET Exam

‘মৌখিক অভিযোগের কি মূল্য আছে?’, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চাপা পড়তে বসেছিল নিট দুর্নীতি, পরে তদন্তে মিলল ৬০০ নম্বরের প্রশ্ন হুবহু

এনটিএর ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং স্বীকার করেছেন, ৭ মে ওই শিক্ষকের পাঠানো ইমেল এবং মোবাইল ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১১:০৫

৪ মে, গভীর রাত। দেশজুড়ে তখন নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েছে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। ঠিক সেই সময় রাজস্থানের সিকার জেলার উদ্যোগ নগর থানায় হাজির হন এক ব্যক্তি। তাঁর হাতে ছিল কয়েকটি হাতে লেখা কাগজ। দাবি ছিল, সেগুলোই নিট-ইউজি ২০২৬-এর ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতি এবং ‘লিখিত অভিযোগ’-এর অজুহাতে সেদিনই চাপা পড়ে যেতে পারত দেশের অন্যতম বড় শিক্ষা দুর্নীতির ঘটনা।

উদ্যোগ নগর থানার এসএইচও রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি গভীর রাতে থানায় এলেও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অন-ডিউটি অফিসার তাঁকে সাদা কাগজ দিয়ে নাম-ঠিকানা ও বয়ান লিখে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি আচমকাই থানা থেকে বেরিয়ে যান। পুলিশের দাবি, “মৌখিক অভিযোগের কি কোনো মূল্য আছে?” যদিও প্রশ্ন উঠছে, এত গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ কেন নিজে থেকে তথ্য সংগ্রহ বা অভিযোগকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার উদ্যোগ নিল না।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি সিকরের একটি নামী কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। তাঁর বাড়িওয়ালার মাধ্যমে হাতে আসে কিছু প্রশ্নপত্রের কপি। সেগুলো মিলিয়ে দেখে তিনি চমকে ওঠেন ৭২০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে প্রায় ৬০০ নম্বরের প্রশ্ন, অর্থাৎ ৯০টি জীববিদ্যা এবং ৪৫টি রসায়নের প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। এরপরই তিনি প্রমাণ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখান থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৭ মে সরাসরি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-কে ইমেল করেন।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পরীক্ষার অন্তত ১৫ দিন আগে থেকেই এই প্রশ্নপত্র বাজারে ঘুরছিল। ৩০ হাজার থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে প্রশ্ন। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খৈরনার নাকি ১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন কিনে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এই চক্রে গুরুগ্রামের এক চিকিৎসকের নামও উঠে এসেছে। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের তদন্ত এখন সিবিআইয়ের হাতে গিয়েছে।

এনটিএর ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং স্বীকার করেছেন, ৭ মে ওই শিক্ষকের পাঠানো ইমেল এবং মোবাইল ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। ১১ মে অভিযোগের সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই তড়িঘড়ি নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ।


Share