Political Chaos

১৩ কোটি টাকার সমবায় কেলেঙ্কারি! গ্রেফতার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও স্বামী, থানার সামনে ‘চোর-চোর’ স্লোগানে উত্তাল রতুয়া

তারপর থেকেই ম্যানেজার অমিতকুমার ও ক্যাশিয়ার প্রণবকুমারের খোঁজ মিলছিল না। আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা।

সমবায় কেলেঙ্কারিতে রতুয়ায় গ্রেফতার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও স্বামী
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ০২:২৮

তৃণমূল পরিচালিত কৃষি উন্নয়ন সমিতির মিনি ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর স্বামী। শুক্রবার মালদহের রতুয়ায় ধৃতদের আদালতে তোলার সময় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম স্মৃতিকণা মণ্ডল ও অনিলকুমার মণ্ডল। রতুয়া-১ ব্লকের কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের মিনি ব্যাঙ্কের পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তাঁদের পরিবার। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলাতেন অনিলকুমার মণ্ডল। পরে তাঁর ছেলে অমিতকুমার মণ্ডলকে ম্যানেজার এবং ভাইপো প্রণবকুমার মণ্ডলকে হিসাবরক্ষকের পদে বসানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক ও সাধারণ মানুষ ওই সমবায় ব্যাঙ্কে সঞ্চিত অর্থ জমা রেখেছিলেন। কিন্তু বছরখানেক আগে আচমকাই ব্যাঙ্কে তালা ঝুলে যায়। উধাও হয়ে যায় সমিতির বোর্ডও। তারপর থেকেই ম্যানেজার অমিতকুমার ও ক্যাশিয়ার প্রণবকুমারের খোঁজ মিলছিল না। আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা।

বিলাইমারি এলাকার বাসিন্দা হৃদয় মণ্ডল গত ১৪ মে রতুয়া থানায় স্মৃতিকণা, অনিলকুমার, তাঁদের ছেলে ও ভাইপোর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ মনে করছে, পরিস্থিতি বুঝে বাকি অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

শুক্রবার ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় রতুয়া থানার সামনে জড়ো হন বহু আমানতকারী। তাঁদের অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় জমানো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু পরিবার। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে অভিযুক্তরা নিজেদের সম্পত্তি বাড়িয়েছেন। যদিও আদালতে যাওয়ার পথে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন ধৃত স্মৃতিকণা মণ্ডল।


Share