RG Kar Case

আরজি কর কান্ডে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করল রাজ‍্য সরকার, খতিয়ে দেখা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, “আগের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। মেয়ের কেসে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে আমরা খুশি।”

তিন আইপিএস অফিসার সাসপেন্ড।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৫:২৪

আরজি কর কান্ডে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করল রাজ্য সরকার। তাঁদের বিরুদ্ধে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। তাই তাঁদেরকে রাজ্য সরকার সাসপেন্ড করেছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

শুক্রবার নবান্ন থেকে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলার ফাইল আবার খোলা হচ্ছে। ওই সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিকেলে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় আইপিএস বিনীত কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন। আরজি কর কাণ্ডের পর প্রবল আন্দোলনের মুখে তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সে বছরের সেপ্টেম্বরে বিনীতকে কলকাতার সিপি থেকে সরিয়ে এসটিএফের এডিজি পদে বদলি করে দেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক গুপ্ত কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) পদে ছিলেন। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে তাঁকেও ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আইপিএস ইন্দিরা তখন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) পদে দায়িত্বরত ছিলেন। আরজি কর কাণ্ড পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের ‘মুখ’ হিসাবে বার বার খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। ধর্মতলায় যত আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছিল এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে। এমনকী, নবান্ন অভিযানের দিন লাঠিচার্জের অভিযোগও রয়েছে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে বিনীত রাজ্যের ডিজি (আইবি) পদে রয়েছেন। তবে কিছু দিন আগে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত‍্যাকান্ডে বিনীতের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। অভিষেক গুপ্ত এই মূহূর্তে ইএফআরের কমান্ডান্ট পদে কাজ করছেন। তিনি ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসার। আর ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এখন সিআইডির স্পেশ্যাল সুপারিনটেনডেন্ট। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারীর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, আমি চার্জ নেওয়ার পর মুখ‍্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব কাছে লিখিত চেয়েছিলাম। আরজি করের ঘটনা এবং তার পরবর্তী কিছু বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম। কী ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকেরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আপাতত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলাম।” 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসাবে আমি ঘোষণা করছি, ওই সময়ে যা ঘটেছিল, তা মিসহ্যান্ডলিং করা, যথাযথ ভাবে এফআইআর করে পদক্ষেপ করার মতো প্রাথমিক যে বিষয়গুলি ছিল, সেখানে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল দু’জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, নির্যাতিতার মাকে রাজ্য সরকারের হয়ে টাকা দিতে চেয়েছিলেন।”

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের বাদ দিয়ে বাকি তদন্ত হবে। নইলে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না। সিবিআইয়ের তরফে যে তদন্ত হচ্ছে, সেখানে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই। রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যের পুলিশের ভূমিকা দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক রকমের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তার তদন্ত হবে। ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছিল, কল লিস্ট, হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখা হবে। পরে বার করব। তখন কার কার সঙ্গে কথা হয়েছে, তখনকার মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, কোনও নির্দেশ ছিল কি না, সব বার করব। এগুলি তদন্তের অংশ।”

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ওই সময়ে এক জন ডিসি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তাঁর শরীরীভাষা এবং মুখের ভাষা রাজ্যের জন্য সুখকর ছিল না। তিনি ওই সময়ে সরকারি ভাবে কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র ছিলেন না। তথ্য নিয়েছি, উনি স্বরাষ্ট্র দফতরেরও মুখপাত্র ছিলেন না। কেউ কাগজে তাঁকে দায়িত্ব দেয়নি। কেউ মৌখিক ভাবে হয়তো আরজি কর কাণ্ডের পর ওঁকে সর্বসমক্ষে বিবৃতি দিতে বলেছিলেন। সেগুলো তদন্তসাপেক্ষ।” তার পরেই ‘আপাতত পদক্ষেপ’ হিসাবে রাজ্যের তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা শুভেন্দু অধিকারী। 

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন আবার আরজি কর মামলার তদন্ত শুরু হবে। ইতিমধ্যে বিজেপির টিকিটে জিতে পানিহাটি থেকে বিধায়ক হয়েছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। বুধবার তিনি শিয়ালদহ আদালতে তিন জনের গ্রেফতারির দাবিতে যান। ওই তিন জন হলেন পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। পানিহাটির বর্তমান বিধায়ক রত্না দেবনাথের অভিযোগ, তাঁর নির্যাতিতা মেয়ের দেহের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নথি হস্তান্তর না-করে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়েছিল। 

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, “আগের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। মেয়ের কেসে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে আমরা খুশি।”


Share