Child Death

পুঞ্চা হাসপাতালে সর্পদষ্ট শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভ, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী

ক্রমশই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিন্তু পরিবারের দাবি, হাসপাতালের তরফে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০২:৩৬

পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সর্পদষ্ট সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে শনিবার হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। মৃত শিশুর নাম অরূপ গোপ। পরিবারের তরফে হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। পরিবার-সহ স্থানীয় বাসিন্দারাও হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে লালপুর–মানবাজার রাজ্য সড়ক।

পরিবারের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে পুঞ্চা থানার বাগদা অঞ্চলের হাতিহার গ্রামের বাড়িতে সে ঘুমিয়ে ছিল। আচমকাই সে জানায়, তাকে কিছু একটা কামড়েছে। পরিবারের সদস‍্যেরা বিছানার উপর একটি কালাচ সাপ দেখতে পান বলে অভিযোগ। এরপর দ্রুত শিশুটিকে পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর বারবার সর্পদংশনের কথা জানানো হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সময়মতো অ্যান্টি ভেনম দেননি। ক্রমশই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিন্তু পরিবারের দাবি, হাসপাতালের তরফে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে অ্যান্টি স্নেক ভেনম দেওয়া হয়। তবে তার প্রায় দশ মিনিটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বচসা বাধে। এমনকী, শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগও ওঠে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে লালপুর–মানবাজার রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরুলিয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস জানান, বিএমওএইচ নবকুমার বিশ্বাসকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অন্য দিকে, চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনাতেও সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিকাঠামো ও লোকবলের ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সেই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক নবকুমার বিশ্বাস। তাঁর দাবি, শিশুটিকে মোট দশ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম দেওয়া হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক পূর্ণিমা মুর্মুও জানান, ভর্তির পর থেকেই শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়েছিল।

শনিবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্তে যান ডেপুটি সিএমওএইচ-২ মহুয়া মহান্তি। তিনি জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।“


Share