Road Accident

পুরুলিয়ায় ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা, বাস-ট্রেলারের সংঘর্ষে প্রাণ গেল সাত বছরের শিশুর

মামারবাড়ি যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৮:৫৩

পুরুলিয়ার আড়ষা থানার কোরাং এলাকায় ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল সাত বছরের এক শিশুকন্যা। বাস ও ট্রেলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও বৃদ্ধও রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও ট্রেলার দু’টিকেই আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম দ্বীপান্বিতা দাস (৭)। ডাকনাম পাখি। বাড়ি পুরুলিয়ার টামনা থানার রাঁয়বাধ গ্রামে। শনিবার সকালে মা সুমিত্রা দাস ও ছোট বোনকে নিয়ে পুরুলিয়া থেকে বলরামপুর হয়ে টাটাগামী একটি বাসে মামারবাড়ির উদ্দেশ্যে সে রওনা দিয়েছিল সে। কোরাং এলাকায় পৌঁছোতেই উল্টোদিক থেকে আসা একটি ট্রেলারের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় পাখি গুরুতর জখম হয়। মাথায় তার মারাত্মক চোট লাগে। তাকে দ্রুত পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শিশুটির মা সুমিত্রা দাস। তবে ছোট বোনটি অক্ষত রয়েছে।

পরিবারের সদস্য শ্রাবণ দাস জানান, কয়েক দিনের ছুটিতে পাখির মামারবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই বাসে ঝাড়খণ্ডের টাটায় ফিরছিলেন কাজল মুর্মু, লতিকা হাঁসদা ও দুখী মাণ্ডি। তাঁরা একটি বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলেন। কাজল মুর্মু বলেন, বাসটি শুরু থেকেই খুব জোরে চলছিল। তিনি বাসের একেবারে পেছনের সিটে ছেলেকে নিয়ে বসেছিলেন। দুর্ঘটনার মুহূর্তে ছেলের মাথা কোলের মধ্যে ঢেকে রাখেন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগলেও ছেলেটি অক্ষত রয়েছে।

অন্য দিকে, লতিকা হাঁসদা ও দুখী মাণ্ডি জানান, বসার জায়গা না পেয়ে তাঁরা গেটের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের দাবি, কান্টাডি এলাকা পার হওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রেলারটি বাসে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তাঁরা সামনের গেটের কাছে থাকায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান। তবে বাসের মধ্যে থাকা শিশুটির মৃত্যু তাঁদের চোখের সামনে ঘটে বলে তাঁরা জানান।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। আহতদের একে একে বাস থেকে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


Share