TMC Leader Arrested

টোটো স্ট্যান্ডে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সাদ্দাম শেখ, “আজ থেকে বন্ধ তোলাবাজি”, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের অভিযোগ আগে নেওয়া হয়নি বা রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, তাঁরা নতুন করে থানায় আফআইয়ার দায়ের করতে পারবেন।

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সাদ্দাম শেখ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালিয়াচক
  • শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১০:১৬

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক কড়াকড়ির বার্তা দিচ্ছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেআইনি কাজকর্ম, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে পুলিশ ও প্রশাসন এবার সরাসরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই টোটো স্ট্যান্ডে তোলাবাজির অভিযোগে কালিয়াচকের বাসিন্দা তথা তৃণমূল নেতা সাদ্দাম শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যের কোথাও আর তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। হকার, টোটো, অটো কিংবা টোল— কোনও ক্ষেত্রেই জোর করে টাকা আদায় চলবে না বলে তিনি কড়া বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, “আগে শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন চলবে। বৈধ রসিদ ছাড়া কোনও টাকা তোলা যাবে না। কেউ টাকা চাইতে এলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানান, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।” আগামী এক মাস পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।

শুধু তোলাবাজি নয়, রাজনৈতিক হিংসা, কাটমানি এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনাতেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের অভিযোগ আগে নেওয়া হয়নি বা রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, তাঁরা নতুন করে থানায় এফফআইয়ার দায়ের করতে পারবেন। প্রশাসনের তরফে বিশেষ করে মহিলাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও, কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি প্রকল্পে কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কেউ যদি পেটিএম, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা অন্য কোনও লেনদেনের প্রমাণ দেখাতে পারেন, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

অন্য দিকে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক অভিযোগে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ-সহ মোট ছয় জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, একুশের বিধানসভা ভোটের পরবর্তী রাজনৈতিক সন্ত্রাসে তাঁদের যোগ ছিল। আবার কোচবিহারে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক তৃণমূল কর্মী গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছে।


Share