Elephant Attack

বাঘমুন্ডিতে ফের হাতি-আতঙ্ক, দলছুট দাঁতালের হামলায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

গবাদি পশু চরিয়ে নদীতে স্নান সেরে ফেরার পথে সুবর্ণরেখা নদী সংলগ্ন এলাকায় দাঁতালের মুখোমুখি হন গুরুচরণ সিং মুড়া। ঘটনার পর এলাকায় ফের হাতি-আতঙ্ক ছড়িয়েছে, বন দপ্তর নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঘমুন্ডি
  • শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার মার্চ গ্রামে দলছুট দাঁতালের আক্রমণে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম গুরুচরণ সিং মুড়া (৭৫)। সোমবার দুপুরে সুবর্ণরেখা নদী সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্বাভাবিক দিনের মতো গবাদি পশু চরিয়ে নদীতে স্নান সেরে বাড়ি ফেরার পথেই তিনি দাঁতালের মুখোমুখি পড়েন।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত ঘেঁষা সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে একটি দলছুট দাঁতাল পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি এলাকায় ঢুকে পড়ে। দুপুরের দিকে ফের ঝাড়খণ্ডে ফিরে যাওয়ার সময় ওই দাঁতালের সঙ্গেই বৃদ্ধ গুরুচরণের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, দাঁতালটি বৃদ্ধকে আক্রমণ করে নদীর চরে ফেলে রেখে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে গা ঢাকা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা দীপক কুমার ও পঞ্চানন রজক জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও গুরুচরণ সিং মুড়া গরু-ছাগলকে নদীতে জল খাইয়ে স্নান সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দাঁতালটিকে দেখে প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত রেহাই পাননি তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পাথরডি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখযোগ্য ভাবে এর আগেও গত ২৬ ডিসেম্বর ঝালদা রেঞ্জের খামার বিটের ডাকাই গ্রামের কাছে জঙ্গলে ডালপালা সংগ্রহ করতে গিয়ে দলছুট দাঁতালের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছিল বাসবালা গোপ (৬২) নামে এক বৃদ্ধার। বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সেই দাঁতালটিও ঝাড়খণ্ডের রামগড় দিক থেকে এলাকায় ঢুকে পড়েছিল।

এই ঘটনার পর ফের হাতি-আতঙ্কে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঘমুন্ডির প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, “ঝাড়খণ্ড দিক থেকে দলছুট দাঁতাল মাঝেমধ্যেই এপারে ঢুকে মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে। হুলা পার্টিকে আরও সক্রিয় করতে এবং হাতি তাড়ানোর উপকরণ সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।” পুরুলিয়া বন বিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ জানান, “দলছুট দাঁতালের সঙ্গে আচমকা মুখোমুখি হওয়ার ফলেই এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। বিধি অনুযায়ী মৃতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে।” 

বন দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বুনো হাতির আক্রমণে মৃত্যু হলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হলে একজনকে ফরেস্ট ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করে পাঠানো হবে।


Share