Fire Incident

পুরুলিয়ায় বাজির গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বাড়ির মালিকের প্রাণ বাঁচিয়ে মানবিকতার নজির গড়ল সাংবাদিক

পুরুলিয়া শহরের কপুর বাগান এলাকায় ওয়েল্ডিংয়ের ফুলকি থেকে মজুত রাখা বাজিতে আগুন লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বাড়ির মালিক ও এক শ্রমিক, তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২০

পুরুলিয়া শহরের জনবহুল এলাকায় হঠাৎই বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে উঠল। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ, আকাশ জুড়ে উড়তে থাকা আতশবাজি— আতঙ্কে বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে এলেন। বুধবার বিকেলে পুরুলিয়া শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কপুর বাগান এলাকায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাড়ির ভিতরে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে ছিটকে পড়া আগুনের ফুলকি মজুত রাখা বাজির ওপর গিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তার পরেই একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আতশবাজি আকাশে ছড়িয়ে যেতে থাকে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

ঘটনায় বাড়ির মালিক নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজে আসা গৌতম সহিস নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। তাঁদের উদ্ধার করে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর জখম হওয়ায় বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী ও পুত্র বাড়িতে ছিলেন না।

এই আতঙ্কের মধ্যেই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন স্থানীয় সাংবাদিক আনন্দ বিহানি। উদ্দেশ্য ছিল খবর সংগ্রহ করা। মানবিকতার কাছে হার মানল পেশা। বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ক্যামেরা সরিয়ে রেখে ছুটে যান আগুনের মধ্যে। জীবন বিপন্ন করে বাড়ির মালিককে উদ্ধার করেন। পুরুলিয়া জার্নালিস্টস ক্লাবের সম্পাদক দীপেন গুপ্ত- সহ বহু স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল পরিমাণ বাজি ওই বাড়িতে মজুত রাখা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার আপত্তি জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের। এই ঘটনার পর তদন্তের দাবি তুলেছেন পুরুলিয়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাসরঞ্জন দাস।

জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে ওয়েল্ডিং থেকে আগুন লাগার তথ্য সামনে এসেছে। বাজি মজুতের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বাজি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মজুত রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।


Share