CJP Protest

যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ রুখতে তৎপর কেন্দ্র! রাজ্য পুলিশের ডিজিদের নির্দেশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের, মুম্বইয়ে আটক ২০০-র বেশি

যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভের আগে একাধিক রাজ্যের পুলিশকে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীদের নোটিস, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং মুম্বইয়ে ২০০-র বেশি মানুষকে আটক করার দাবি উঠেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৭

যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচির ছ’দিন আগে, গত ৪ অক্টোবর একাধিক রাজ্যের পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। অতীতে একই ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যাতে দিল্লির আন্দোলন স্থল পর্যন্ত পৌঁছোতে না পারেন, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কয়েকটি শহরের পুলিশ কমিশনারদের নিয়ে এই বৈঠক হয়।

সূত্রের খবর, অতীতে এমন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নোটিস পাঠাতে হবে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে প্রতিরোধমূলক আটক করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়।বিক্ষোভকারীদের অর্থের উৎস সম্পর্কেও খোঁজ নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গত ৮ অক্টোবর ফের বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

ককরোচ পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে-র রাজ্য মহারাষ্ট্রে এই বৈঠকের পরেই তৎপরতা শুরু হয় বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের ডিজির দফতর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা পুলিশকে একটি ‘গোপন চিঠি’ পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীদের দিল্লি যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিঠিতে মারাঠি ভাষায় ‘ত্যানা প্রাভরুত্তা করা’-অর্থাৎ বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করা এবং ‘যোগা তে প্রতিবন্ধক কারবাহি করাভে’-অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠির ভিত্তিতেই কয়েকজন সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীকে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের বক্তব্য।

তবে মহারাষ্ট্রের ডিজির দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, ৫০টিরও কম নোটিস দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য পুলিশ কাউকে আটক করেনি। ওই আধিকারিকের দাবি অনুযায়ী, ডিজির নির্দেশ ছিল কাউকে আটক না করে নোটিস জারি করা।

মহারাষ্ট্র পুলিশ নোটিস জারি করলেও মুম্বই পুলিশ আরও কড়া পদক্ষেপ করে বলে সূত্রের দাবি। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হয়। তাঁদের শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়া আটকাতেই এই পদক্ষেপ করা হয় বলে মুম্বই পুলিশের সূত্রের বক্তব্য।

এক আধিকারিকের দাবি, মহারাষ্ট্র পুলিশ আইনের বিভিন্ন ধারায় তাঁদের আটক করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি পুলিশ বাহিনী নিজেদের বিবেচনায় কার্যকর বলে মনে করা পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একাংশের আশঙ্কা, আগের বিক্ষোভের সময় জমায়েতের সংখ্যা কম করে অনুমান করার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির আগের আন্দোলনের জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এ বার যাতে দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জমায়েত হতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই আগাম পদক্ষেপ করার জন্য দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। মহারাষ্ট্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, কারণ ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ওই রাজ্যের বাসিন্দা। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন সক্রিয় কমিউনিস্ট সংগঠনগুলি বিক্ষোভে অংশ নিতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।

৪ অক্টোবরের বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের সদস্যদের দিল্লি যাওয়া আটকানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে সূত্রের দাবি। অতীতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি ওই সংগঠনগুলির সদস্যদের গতিবিধির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।


Share