CJP Protest

বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ককরোচদের বিক্ষোভ নিয়ে চর্চা, আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আন্দোলনের প্রচার বাড়তেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও বিদেশি অর্থায়নের দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ, আন্দোলনের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে, অর্থের উৎস নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৯

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানী। শনিবারের এই কর্মসূচিতে অভিজিৎ দীপকে-সহ সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে। তবে শুধু দেশের রাজনৈতিক মহলেই নয়, এই আন্দোলন ঘিরে আগ্রহ দেখা গিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও। আর তা থেকেই আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিক্ষোভ শুরুর আগেই অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’। ‘Police clamp down on Delhi protest and detain ‘Cockroach’ movement leader’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এবং আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে বিতর্ককে গুরুত্ব দিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পিছনে থাকা কারণগুলি নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা। কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজ়িরা আবার দিল্লির বিক্ষোভ, পুলিশি অভিযান, আন্দোলনকারীদের আটক, মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার খবর নিয়ে লাইভ ব্লগ করছে।

এ ছাড়াও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, রয়টার্স, ফ্রান্স ২৪ এবং এএফপি-র মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে এই বিক্ষোভের খবর। রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপও গুরুত্ব পেয়েছে তাদের প্রতিবেদনে।

বিদেশি সংবাদমাধ্যমের এই আগ্রহকে ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ এর পিছনে ‘ডিপ স্টেট’-এর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে ধরছেন। আবার কারও দাবি, বিদেশি অর্থে পরিচালিত হচ্ছে এই আন্দোলন। যদিও এই দাবিগুলির পক্ষে কোনও নিশ্চিত প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এদিকে, বিক্ষোভের বিপুল অর্থের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে কয়েক জন আরটিআই কর্মী নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।

তবে সিজেপির বক্তব্য, তারা কোনও রাজনৈতিক দল নয় এবং তাদের কোনও কর্পোরেট স্পনসরও নেই। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও মুখপাত্র সৌরভ দাসের দাবি, সাধারণ মানুষের অনুদানের মাধ্যমেই আন্দোলনের খরচ চালানো হয়। ফলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ এবং আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্ন-দুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।


Share