CJP Protest

ঢাকঢোল পিটিয়েও ককরোচদের ‘জ্ঞানেশ আন্দোলন’ ফ্লপ, লোক আসবে না ভেবেই কী আগেভাগেই পুলিশের হাতে ধরা দেয় দীপকে-সৌরভ-রাঠীরা?

তাঁর দাবি, বিক্ষোভে জনসমাগম কম হওয়ার আশঙ্কাতেই আগেভাগে পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছেন ধ্রুব রাঠী-সহ ‘ককরোচ পার্টি’র নেতারা।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮

জ্ঞানেশ-বিক্ষোভের আগে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে প্রচার হয়েছিল। বিদেশফেরত ভুয়ো খবর ছড়ানোর ‘ওস্তাদ’ তথা মোদী বিরোধী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী নিজেও বলেছিলেন ‘যন্তর মন্তর’-এ দেখা হবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, যন্তর মন্তরে লোক হবে না তা আগে থেকেই ককরোচ পার্টির নেতাদের ধারণা ছিল। তাই তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে প্রশাসন ওয়াকিবহাল ছিল। বিক্ষোভ শুরুর আগেই তাঁরা নিজেদের ধরা দিয়ে দেয়। এ ছাড়াও, সরকার বিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনায় যে ককরোচেরা একেবারেই শিশু বলে তা মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক অজিত ভারতী সমাজমাধ‍্যমে লিখেছেন, ‘বিক্ষোভে কতজন মানুষ আসবেন’—এই পরিস্থিতি এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হল নিজেই আটক হয়ে যাওয়া। তাঁর বক্তব্য, বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ে মাত্র দু’হাজার করে মানুষের জমায়েত হয়েছে। তা দেখে ‘ককরোচ’রা নিজেদের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে একটা ধারণা আগেই পেয়ে গিয়েছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদক্ষেপের দাবিতে যে পরিমাণ জমায়েত ছিল তা এ ক্ষেত্রে একেবারেই ছিল না। অজিত মনে করেন, অনেক মানুষ এলেও বিক্ষোভকারীদের সংখ্যাটা কোনও ভাবেই ৫ হাজার ছাড়াত না। তাঁর পরিসংখ্যান, দিল্লিতে যদি দু’হাজার হয় বাকি রাজ‍্য মিলিয়ে যে বিক্ষোভকারী আটক হয়েছে তার সংখ্যা মেলালেও কোনও ভাবেই উল্লেখ যোগ‍্য হবে না বলেই মনে করেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক অজিত।

এর পরেই অজিত লিখেছেন, “নায়কের মতো সরাসরি যন্তর মন্তরে মিছিল করে পৌঁছোতে পারেন এমন কোনও পদক্ষেপ ককরোচ নেতারা করেননি। সেখানেই গেলে পুলিশ তাঁদের টেনেহিঁচড়ে আটক করত।” উল্টে দীপকে-রাঙ্কা-দাস-রাঠীদের মতো নেতারা নিজেদের যাতায়াত ও কর্মসূচির কথা শুধু যে প্রকাশ্যে আনা ছাড়াও পুলিশের কাছে ধরা পড়া এড়ানোর জন্য কোনও ব্যবস্থাও তাঁরা নেননি বলে দাবি করেছেন অজিত। 

অজিত এই চারজনই ‘চূড়ান্ত পর্যায়ের কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণ, ২০ জুলাইও রাঙ্কা-দাস ইচ্ছাকৃত ভাবে জে পি নাড্ডার বাড়িতে বসেছিলেন। বিক্ষোভে পুলিশের লাঠির ঘা খেতে যাতে না হয় তার জন্যই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। দীপকে একটি ট্রাকে উঠে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলেও অজিত দাবি করেছেন। 

তাঁর কথায়, “এই সব যাবতীয় কারণেই বিমানের মধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ার অর্থ হল, লাঠির বারি খাওয়া কিংবা ব্যারিকেড থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর ঝক্কি এড়ানো। যাই হোক, সরকারের কাছ থেকে আমার খুব বেশি আশা নেই। তবে পুলিশকে যদি শুধু ঠিকমতো নিজের কাজটা করতে দেওয়া হয়, তা হলে এক মাসের মধ্যেই রাঠীদের মতো লোকেদের ‘দেশপ্রেম’ পুরোপুরি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে রাজধানীতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তাই আগেভাগে সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সে বার প্রায় এক লক্ষ বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। শনিবারের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দিল্লি পুলিশ। গতকাল বিকেলে শীর্ষ পুলিশকর্তারা দেশের রাজধানীকে শান্ত রাখতেই বৈঠক করে এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে। 

জানা গিয়েছে, দিল্লিতে অন্তত দু’হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। অশান্তি ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানীর ১৫টি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধমূলক অতীত রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরও আটক করে পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। শুক্রবার থেকেই দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। দুপুর ২টো পর্যন্ত বাতিল করা হয় ২৫০টিরও বেশি ট্রেন। দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।


Share