Hospital

মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে প্রৌঢ়ার মৃতদেহ খুবলে খেল ইঁদুর, তদন্তে ১০ সদস্যের কমিটি

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্তে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মানিকতলা ইএসআই হাসপাতাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৩

মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে এক প্রৌঢ়ার মৃতদেহ ইঁদুরে খুবলে খাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার মুখ, হাত ও আঙুলে একাধিক ক্ষতচিহ্নের পাশাপাশি চোখের পাতা এবং ঠোঁটের একাংশও উধাও বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম আল্পনা দে। তিনি হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা। গত প্রায় ছ’বছর ধরে তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ফিমেল সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, আল্পনাদেবীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ তাঁর মৃত্যুর খবর আগে থেকে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়নি বলেই দাবি তাঁদের।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মৃতদেহের উপর থেকে কাপড় সরাতেই তাঁরা দেখতে পান, মুখ ও হাতে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। চোখের পাতা নেই, ঠোঁটের একটি অংশও উধাও। আঙুলেও ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান তাঁরা। পরিবারের দাবি, ইঁদুরই মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ খুবলে খেয়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। হাসপাতালের তরফেও ইঁদুরের দ্বারা দেহের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি।

ঘটনার পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, হাসপাতালের ওয়ার্ডে ইঁদুরের উপদ্রব ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

উল্লেখ্য, মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে পরিষেবা নিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবার সরবরাহে অনিয়ম এবং হাসপাতালের কর্মী ও কয়েক জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে এক প্রৌঢ়ার মৃতদেহ ইঁদুরে খুবলে খাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় হাসপাতালের পরিষেবা ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।


Share