Humayun Kabir

কান্নায় ভেঙে পড়লেন নওদার বিধায়ক! ভোটের পর রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত, মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নিশানা হুমায়ুনের কবিরের

রেজিনগর উপনির্বাচনের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত হুমায়ুন কবিরের। এখনই বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না, নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

নওদার জেইউপি বিধায়ক হুমায়ুন কবির।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০৬

রেজিনগর উপনির্বাচনের পর একেবারে বদলে গেল নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবিরের সুর। মঙ্গলবার ভোটের দিন পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি এবং আটক হওয়ার পর বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত ভেঙে পড়লেন তিনি। চোখে জল, জোড়হাতে ক্ষমা চাওয়া এবং রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ইঙ্গিত- হুমায়ুনের এমন রূপে চমকে গিয়েছে রাজনৈতিক মহল।

মঙ্গলবার রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন সকাল থেকেই সক্রিয় ছিলেন হুমায়ুন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা ও ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের উদ্দেশে কুকথা বলার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে আটক করা হয়। হুমায়ুনের দাবি, প্রায় ১২ ঘণ্টা তাঁকে পুলিশ আটকে রাখে এবং কোনও বুথেই যেতে দেওয়া হয়নি।

বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে হুমায়ুন বলেন, রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পাবে। একইসঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে কোনও ভোট হয়নি, পুলিশ দিয়ে ভোট লুট করানো হয়েছে। রাজ‍্যে গণতন্ত্রের পরিবর্তে পুলিশরাজ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যতদিন থাকবেন, ততদিন আমি আর বিধানসভায় যাব না।” মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি, বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটি, সর্বদলীয় বৈঠক কিংবা স্পিকারের ডাকা কোনও বৈঠকেও যোগ দেবেন না বলে জানান তিনি। তাঁর জন্য নির্ধারিত আসনটি ফাঁকা রাখার কথাও বলেন।

কান্নায় ভেঙে পড়ে রেজিনগরের মানুষের কাছে ক্ষমা চান হুমায়ুন। বলেন, পাঁচ মাস আগে তাঁরা যে সম্মান দিয়ে তাঁকে বিধায়ক করেছিলেন, সেই মর্যাদা তিনি রাখতে পারেননি। আগামী দিনে রাজনীতি এবং সমস্ত কিছু থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি।

তবে এখনই বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না হুমায়ুন। নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, রেজিনগরে তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণার আগে হুমায়ুনের এই ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।


Share