CJP Protest

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর আগেই শুরু হয় ধরপাকড়, আটক দু’হাজার ‘ককরোচ’, অশান্তি এড়াতে দিল্লিতে পুলিশের টহল

রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। শনিবারের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দিল্লি পুলিশ। গতকাল বিকেলে শীর্ষ পুলিশকর্তারা দেশের রাজধানীকে শান্ত রাখতেই বৈঠক করে এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে।

ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৪৯

বিরোধী দলের নেতা, আন্দোলনকারী, এমনকী ইউটিউবার-সহ দু’হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে অশান্তির ছড়ানোর আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশের আটক করেছে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ পার্টি। সেই কর্মসূচি ঘিরেই নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিল্লি পুলিশ। পরিকল্পিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছোনোর আগেই অধিকাংশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। বাস ও ভ্যানে চাপিয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন স্টেডিয়াম এবং অস্থায়ী আটককেন্দ্রে।

গত জুলাই মাসে রাজধানীতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তাই আগেভাগে সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সে বার প্রায় এক লক্ষ বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। শনিবারের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দিল্লি পুলিশ। গতকাল বিকেলে শীর্ষ পুলিশকর্তারা দেশের রাজধানীকে শান্ত রাখতেই বৈঠক করে এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে।

জানা গিয়েছে, দিল্লিতে অন্তত দু’হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। অশান্তি ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানীর ১৫টি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধমূলক অতীত রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরও আটক করে পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। শুক্রবার থেকেই দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। দুপুর ২টো পর্যন্ত বাতিল করা হয় ২৫০টিরও বেশি ট্রেন। দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সকাল থেকে কী ঘটেছিল?

ভোরবেলা: ককরোচদের নেতা অভিজিৎ দীপকে মুম্বই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সরকারের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকার ‘ভীত’। উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে প্রবেশ করা বাস ও অন্যান্য গাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা: কনট প্লেসের ইনার সার্কেল এলাকা থেকে ব‍্যপক ধড়পাকড় অভিযান শুরু হয়। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়। সকাল গড়াতেই সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০ ছাড়িয়ে যায়।

সংসদ মার্গ থানার কাছে প্রায় ৩,০০০ নিরাপত্তাকর্মীকে মোতায়েন ছিল। সংসদমুখী সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। তার প্রস্তুতি সকাল থেকেই শুরু করেছিল দিল্লি পুলিশ।

এদিকে, মোদী বিরোধী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর ককরোচদের আন্দোলননে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। যন্তর মন্তরে ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দিতে বিদেশ থেকে এসেছিল। গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয় বিদেশে বসে ভুয়ো খবর ছড়ানোর ‘ওস্তাদ’ ধ্রুব রাঠীকে। দিল্লিতে আটক করা হয় ককরোচদের আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহকেও।

সকাল ১০টা ১৯ মিনিট: দিল্লিতে অবতরণ করে অভিজিৎ দীপকের বিমান। ককরোচদের দাবি, বিমানটির ভিতর থেকেই তাঁকে, দলের আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। সিজেপির তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োতে দীপককে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, “আমি গ্রেফতার হওয়ার জন্যই এসেছি, গ্রেফতার করুন।” জবাবে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “না, এটা গ্রেফতার নয়। দয়া করে সহযোগিতা করুন।”

এরপর একটি ব্যক্তিগত গেট দিয়ে ওই তিন ককরোচ নেতাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের পৃথক পৃথক জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

ককরোচদের অভিযোগ, তাদের নেতাদের ‘স্বৈরাচারী কায়দায় আটক’ করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে দল। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ধড়পাকড় সত্ত্বেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে। অশান্তি এড়াতে সব মিলিয়ে দিল্লি পুলিশ যে পরিকল্পনায় অভিযান চালিয়েছে তাতে আন্দোলন পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছে।


Share