CJP Protest

অশান্তির আশঙ্কায় আটক ককরোচ পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই ধড়পাকড়

পুলিশের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “আমরা বিমান থেকে নামা পর্যন্ত তো আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন! আসুন, গ্রেফতার করুন আমাদের। গ্রেফতার হতেই এসেছি। ভয় পাই না।”

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক ককরোচ পার্টির তিন নেতা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৪

যন্তর মন্তরে আন্দোলন করার অনুমতি নেই। জোর করে সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে চায় ককরোচ পার্টি। বিমানবন্দরে নামতেই ককরোচ পার্টির তিন নেতাকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। বিমানে সেই সময় অন‍্য যাত্রীরাও ছিলেন। তাঁদের ধরতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।

যন্তর মন্তরে মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ পার্টি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে অভিজিৎ দীপকে দিল্লিতে আসছিলেন। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করতেই পুলিশ প্রবেশ করে। ওই বিমানের আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস ছিলেন।

জানা গিয়েছে, অশান্তির আশঙ্কায় আগে থেকেই বিমানবন্দরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁরা এই তিন নেতার আসার অপেক্ষা করছিল। মহিলা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল। দীপকে, রাঙ্কা, সৌরভকে আটক করার বিষয়টি দিল্লি পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিজেপি নেতাদের আটক করতে দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছিল বিমানবন্দরে।

এর পরেই পুলিশ বিমানে প্রবেশ করে পুলিশ। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। দীপকে জানিয়ে দেন, গ্রেফতার হবেন জেনেই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। মহিলা পুলিশদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা বিমান থেকে নামা পর্যন্ত তো আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন! আসুন, গ্রেফতার করুন আমাদের। গ্রেফতার হতেই এসেছি। ভয় পাই না।”

অভিজিৎ দীপকে-দের আটক করার পর সিজেপি একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাঁদের দাবি, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছোনোর আগেই আটকে দেওয়ার জন্য এটা দিল্লি পুলিশের পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ।” তাঁদের আরও দাবি, “সকলের চলাফেরার স্বাধীনতা রয়েছে। অবিলম্বে দীপকে, দাস, রাঙ্কার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হচ্ছে।”

এর আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ‘কমিউনিস্ট’ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে দিল্লি না-যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি কথা শোনেননি বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও, ইন্টারনেটে ব্রগারদের একাধিক মুখ, ককরোচদের একাধিক নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। সূত্রের খবর, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি আটক হয়েছেন। সিজেপি নেতা সৌরভ জানিয়েছেন, আইনজীবী রত্না সিংহকে সকালে আটক করেছে পুলিশ।

সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ। একাধিক জায়গায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট। শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সকাল থেকে যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় চলছে পুলিশের মাইকিং। ২৪ ঘন্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে।


Share