Murder Case

ডানকুনিতে খুন করে গাড়ি বিক্রির ছক, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই ক‍্যাব চালককে খুন করে ধৃত শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল ও শেখ শাহাদাত

২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ক্যাব চালককে পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গাড়ি ছিনতাই ও বিক্রির পরিকল্পনার তথ্য সামনে এসেছে।

ক‍্যাব চালকদের খুনের ঘটনায় গ্রেফতার তিন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২৮

২৪ ঘণ্টার মধ্যে জোড়া খুন। দু’জনই ক‍্যাব চালক। দু’জনকেই পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ঘটনাটায় তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কেন দু’জনকে খুন করা হয়েছিল তা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাতেই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে।

গত ৬ অক্টোবর হুগলির ডানকুনির ভাদুয়ায় এক ব্যাক্তির পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম রামজি কইরি। বিরাটির বাসিন্দা রামজি পেশায় ক্যাব চালক ছিলেন। তার পরের দিন, মঙ্গলবার এন্টালিতে ভগবানপ্রসাদ গুপ্ত নামে এক ক‍্যাব চালকের দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁরও পা বাঁধা ছিল। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। দেহ গাড়ির ভিতর থেকেই উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ডানকুনি থানার পুলিশ। মামলার তদন্তে যুক্ত করা হয় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দাদেরও। তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ‍্যমগ্রাম থেকে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই দিনই সোদপুর থেকে আরও দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম- শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল ও শেখ শাহাদাত। শনিবার ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হলে দশ দিনের জন্য হেফাজতে তাঁদের পেয়েছে পুলিশ।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরিয়ান, মনিরুল, শাহাদাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতেরা যাত্রী সেজে ক্যাব ভাড়া করত। তার পরে চালককে খুন করে সেই ক্যাব ছিনিয়ে নিত। সেই ক‍্যাব অন‍্যত্র গিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল। আততায়ীরা ওই ক্যাব হাইজ্যাক করে সেটা বিক্রির উদ্দেশে বেনিয়াপুকুরে আসে। কিন্তু গাড়ির কাগজপত্র নথি না থাকায় কেউ কিনতে চায়নি। অন‍্য দিকে, গাড়ির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় সেটাকে বেনিয়াপুকুরে ফেলে রেখেই ফেলে চলে যায়। এরপর একই কায়দায় মঙ্গলবার মধ‍্যরাতে এন্টালিতে আরেক অ্যাপ ক্যাব চালককে খুন করে গাড়ি হাইজ্যাকের চেষ্টা করে ওই তিনজন। ঘটনাটি কলকাতা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

চন্দননগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপান্তর সেনগুপ্ত জানান, “ডানকুনি দেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের সন্ধান মেলে। তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়।পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরো সূত্রের সন্ধান চালানো হবে। এই চক্রে আর কারা রয়েছে তা জানার চেষ্টা চলবে। প্রাথমিক ভাবে বেশ কিছু সূত্র ও তথ্য হাতে এসেছে সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


Share