Sadhana Group

আর্থিক তছরুপ মামলায় সাধনা গ্রুপের সিএমডি রাকেশ গুপ্তকে গ্রেফতার করল ইডি, পাঁচ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

অর্থপাচার মামলায় সাধনা গ্রুপের সিএমডি রাকেশ গুপ্তকে গ্রেফতার করেছে ইডি। আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মামলায় অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:২২

সাধনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) রাকেশ গুপ্তকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার ভোরে আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে পাঁচ দিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই মামলায় অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান তদন্তকারী সংস্থার। সাধনা গ্রুপের অধীনে সাধনা টিভি-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম ও মিডিয়া নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়।

অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সৌরভপ্রতাপ সিংহ লালের নির্দেশ, আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টের মধ্যে রাকেশ গুপ্তকে ফের আদালতে পেশ করতে হবে। ৬৩ বছর বয়সি গুপ্তকে শুক্রবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটে বসন্ত কুঞ্জের ঈশ্বর ফার্মস থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাত ২টো ৩ মিনিটে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গ্রেফতারের কারণ জানানো এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করেছে ইডি। তবে অভিযুক্তের বয়স এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাজের বিষয়টি বিবেচনা করে সাত দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের হেফাজতই যুক্তিযুক্ত বলে জানিয়েছে আদালত।

দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইংয়ের ২৯ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি এই অর্থপাচার মামলাটি শুরু করে ইসিআইআর দায়ের করে। প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ-সহ ভারতীয় ন‍্যায় সংহতিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে রাকেশ গুপ্তের।

ইডির অভিযোগ, সাধনা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে গুপ্ত সংশ্লিষ্ট ঋণদাতাদের ব্যবহার করে সাধনা মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের (এসএমপিএল) দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত। সংস্থার ঋণদাতাদের কমিটির ৯৯.৪১ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল সংশ্লিষ্ট ঋণদাতাদের হাতে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এর ফলে ১১০.১০ কোটি টাকার আয়কর বকেয়া মাত্র ২০ লক্ষ টাকায় মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এ ছাড়াও, এসএমপিএল বা আরিয়ান টিভি বিক্রির ক্ষেত্রে ইউএসডিটি (USDT) এবং হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে নগদে প্রায় ২.৫০ কোটি থেকে ২.৮২ কোটি টাকা পাওয়া হয়েছিল বলে দাবি ইডির। তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, এসএমপিএল সংশ্লিষ্ট ঋণদাতাদের মোট ৪.৪৮ কোটি টাকা দিয়েছিল। এর মধ্যে রাকেশ গুপ্তের নিজের সংস্থা শার্পলাইন ব্রডকাস্ট লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ২.৯৯ কোটি টাকা।

ইডির দাবি, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) গত বছরের ২৯ মে একটি চূড়ান্ত নির্দেশে সাধনা ব্রডকাস্ট লিমিটেডের শেয়ার কারচুপির ঘটনায় রাকেশ গুপ্তকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ওই ঘটনায় তাঁকে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবেও প্রায় ৫৮ কোটি টাকার দায় বহনের জন্য দায়ী করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইডি।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা। সাধনা গ্রুপের নথিপত্র দিল্লির গোল মার্কেট এলাকার কার্যালয়ে রাখা রয়েছে। সেই কার্যালয় সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারাধীন এলাকার মধ্যে পড়ে বলে পিএমএলএ-র ৪৪(১)(এ) ধারার উল্লেখ করেছে ইডি।

ইডির বিশেষ সরকারি আইনজীবী সাইমন বেঞ্জামিন আদালতে জানান, হাওয়ালা মারফত লেনদেন হওয়া নগদ অর্থের উৎস ও গতিপথ খুঁজে বের করতে রাকেশ গুপ্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। শার্পলাইন ব্রডকাস্টে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা ২.৯৯ কোটি টাকা এবং ব্যাঙ্কের লেনদেনের কোনও নথি ছাড়াই সরোজ কনস্ট্রাকশন ও গ্রাফিস্যাডসকে প্রদেয় হিসেবে দেখানো ৮.৯৮ কোটি টাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে চায় ইডি। পাশাপাশি, এসএমপিএলের অবলুপ্ত সম্পত্তির হদিস পেতেও তাঁকে জেরা করা প্রয়োজন বলে দাবি সংস্থার।

ইডি আরও জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা রাকেশ গুপ্তের আইফোন ১৩ প্রো এবং আইপ্যাড প্রো থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে। ৯ অক্টোবর সহ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রেকর্ড করা বয়ানের ভিত্তিতেও তাঁকে প্রশ্ন করা হবে। দুবাই ও সিডনিতে টেলিকাস্ট থেকে পাওয়া অর্থ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হাওয়ালা মারফত নিষ্পত্তি হওয়া লেনদেন এবং গোল মার্কেটের কার্যালয়ে থাকা হিসাবের খাতা, ব্যাঙ্কের নথি ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের তথ্য খতিয়ে দেখতে চায় তদন্তকারী সংস্থা।

এ ছাড়া, সরোজ কনস্টওয়েল প্রাইভেট লিমিটেডের ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখতে চায় ইডি। সাক্ষীরা অভিযুক্তের কর্মী ও আত্মীয় হওয়ায় তাঁদের প্রভাবিত করা বা প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালতে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।


Share