CJP Protest

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মেট্রো-রেলে বিধিনিষেধ? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, দিল্লির পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা, রবিবারই শুনানি

এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি থারারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০১

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগে এক আইনজীবী ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি থারারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি। রবিবারই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। রাজধানীতে বড় জমায়েতের আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে কেন্দ্রীয় সরকার। এর জেরে মেট্রো ও রেল পরিষেবায় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়। শনিবার দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি, দিল্লিগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়। হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনগামী একাধিক দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়। কিছু ট্রেনের পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছিল।

এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে তিনি জানান, দিল্লি থেকে গুরুগ্রাম, গ্রেটার নয়ডা এবং রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন কাজের জন্য যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের অসুবিধার বিষয়টিই আদালতের উদ্বেগের কারণ।

একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেনি শীর্ষ আদালত। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রত্যেকের নিজস্ব গাড়ি নেই, ফলে বহু মানুষকে গণপরিবহণের উপর নির্ভর করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না!’’

মেট্রো ও ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত, যাতে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও সমস্যা না হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত নির্দেশিকা জারির কথাও বলা হয়। এর পর দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হবে।

তবে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথ ভাবে মানা হয়নি। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন বাতিলের কারণে যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হোক। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই রবিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।


Share