Shoot Out

মহালয়ার আগের রাতে থানার ঢিলছোড়া দূরত্বে বোমাবাজি, চলল গুলিও! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, আতঙ্কে শান্তিপুরবাসী

মহালয়ার রাতে বোমাবাজি ও গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্য নদিয়ার শান্তিপুরে। ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৫

মহালয়ার আগের রাতে 'অসুর'-এর তাণ্ডব শান্তিপুরে! শারদীয়ার প্রাক্কালে থানার নাকের ডগায় চলল বোমাবাজি ও গুলি। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে যখন দেবী দুর্গার আবাহনে এবং অসুর নিধনের প্রার্থনায় গোটা রাজ্য মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই বাস্তব জীবনের 'অসুর'-দের তাণ্ডবে কেঁপে উঠল নদিয়ার শান্তিপুর। খোদ থানার ঢিলছোঁড়া দূরত্বে চলল গুলি ও বোমাবাজি। এই দুঃসাহসিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উৎসবের মুখে চরম আতঙ্কিত শান্তিপুরবাসী।

জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে শান্তিপুর থানার অত্যন্ত কাছে, অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রের (ফায়ার স্টেশন) সামনে থাকা একটি নির্মাণসামগ্রীর দোকানে দুষ্কৃতীরা এই ভয়াবহ হামলা চালায়। রাতের অন্ধকারে একটি মোটরসাইকেলে চেপে তারা আসে। পুলিশি নজরদারি এড়াতে দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের মুখ বাঁধা ছিল এবং বাইকের নম্বর প্লেটটিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এরপরই ওই দোকান লক্ষ্য করে তারা সজোরে বোমা ছোঁড়ে।

হামলার তীব্রতা এখানেই থেমে থাকেনি। দোকানের পাশেই রাখা একটি চারচাকা গাড়ি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। গাড়ির অডিও ডিসপ্লে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। ঘটনার পরদিন সকালে রাস্তায় খোলা পড়ে থাকতে দেখা যায় গুলির খোল। এছাড়া, ঘটনাস্থল থেকে বোমা বাঁধার সুতলি-সহ একাধিক সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। 

আজ সকালে ওই ব্যবসায়ী দোকান খুলতে এসে বোমাবাজি ও গুলির এই তাণ্ডব দেখতে পান। স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

থানার এবং ফায়ার স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনের নাকের ডগায় এমন হামলায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই বাইকবাহিনীর পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে তৎপর হয়েছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। তবে পুজোর মুখে জনবহুল এলাকায় এহেন বোমাবাজির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।


Share