BJP’s Dairy Missing Mystery

দলের প্রশিক্ষণ শিবির থেকেই হারিয়ে গেল বিজেপি নেতা শিবপ্রকাশের ডায়েরি, তবে পুলিশের কাছে দায়ের হয়নি কোনও অভিযোগ

নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারের এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁকে বিজেপির তরফে হলুদ রঙের একটি ডায়েরি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়। তাঁরা সেটি খুঁজে দেখার নির্দেশ দেন। পরে সেখানে তিনটি ডায়েরি পাওয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে একটা হলুদ রঙেরই ছিল। সেগুলি তাঁরা রাজ্য বিজেপির এক প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন।

বৈঠক থেকে হারিয়ে গেল বিজেপি নেতার ডায়েরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৩:২৪

দলের প্রশিক্ষণ শিবির থেকেই হারিয়ে গেল বিজেপি নেতার ডায়েরি। দলের সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে একটি শিবির থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশের সঙ্গে থাকা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ একটি ডায়েরি হারিয়ে গিয়েছে। হলুদ রঙের ওই ডায়েরিটি হারিয়ে যেতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্বের। দলের একাংশের মতে, ওই ডায়েরিতে বিজেপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত লেখা ছিল। যদিও তা নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। বেহাত হয়ে ডায়েরিটি কোথায় গেল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিষয়টি নিয়ে একটি বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ১৬ অগস্ট ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের জন‍্য একটি প্রশিক্ষণ শিবির চলছিল। বর্তমানে গোটা দেশ জুড়ে বিজেপির ‘পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাশিবির’ চলছে। সেই শিবিরের সামগ্রিক ভাবে দায়িত্বে রয়েছেন দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশ। তিনি নিজেই প্রশিক্ষণ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন।

রাজ্য এবং জেলা স্তরের বিভিন্ন পদাধিকারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতানেত্রীদের সেখানে ডাকা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, তিন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিংহ ওই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। এই রকম ওজনদার কর্মসূচির মাঝেই শিবপ্রকাশের ডায়েরি উধাও হয়ে গিয়েছে বলে ওই বাংলা ডিজিটাল মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওই বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার কথা রাজ্য বিজেপির অধিকাংশ নেতাই জানেন না বলেই দাবি করা হয়েছে। শীর্ষ স্তরের মাত্র কয়েক জন নেতারই এই বিষয়টি জানেন। দলীয় একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের মধ্যে কয়েক জন ডায়েরিটি খুঁজে বার করতে তৎপরও হয়েছিলেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘটনার দিন দশেকের বেশি কেটে গেলেও শিবপ্রকাশের হলুদ ডায়েরির এখনও খোঁজ মেলেনি।

নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারের এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁকে বিজেপির তরফে হলুদ রঙের একটি ডায়েরি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়। তাঁরা সেটি খুঁজে দেখার নির্দেশ দেন। পরে সেখানে তিনটি ডায়েরি পাওয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে একটা হলুদ রঙেরই ছিল। সেগুলি তাঁরা রাজ্য বিজেপির এক প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন।

তবে রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, যে হলুদ ডায়েরিটি পাওয়া গিয়েছে তা সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশের নয়। কোনও বাঙালি পদাধিকারীর। কারণ ওই ডায়েরিতে বাংলা ভাষায় লেখা রয়েছে।

রাজ‍্য হোক বা কেন্দ্র, বিজেপির নেতারা দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে গেলে তাঁরা সঙ্গে করে একটি ডায়েরি নিয়ে যান। যে কোনও কর্মসূচিতে বক্তারা কী বললেন, কী কী পরামর্শ বা প্রস্তাব উঠে এল, কী সিদ্ধান্ত হল, পরবর্তী পদক্ষেপ কী, ইত্যাদির বিবরণ নিজের নিজের ডায়েরিতে তাঁরা সবিস্তার লিখে রাখেন। অনেক সময়ে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত— যা ঘোষিত হয়নি, পরে হবে এমন কথাও সেখানে লিখে রাখা হয়। শিবপ্রকাশের ডায়েরিতেও তেমন বিবিধ বিষয়ই যে নথিবদ্ধ ছিল, সে বিষয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সংশয় নেই।

শিবপ্রকাশ সেই তিন-চার জন শীর্ষ বিজেপি পদাধিকারীর একজন। তিনি গোটা দেশের দলীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ডায়েরিতে শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে নয়, অন্যান্য রাজ্যের বা কেন্দ্রীয় স্তরের সাংগঠনিক বিষয়ও নথিবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা নিয়েই বিজেপি নেতৃত্ব চিন্তায় রয়েছে।

দলের একটি বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, যদিও বিজেপি নেতা শিবপ্রকাশ ডায়েরি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে থানায় কোনও অভিযোগ জানাননি। নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারের ঠিক কোন হল বা ঘর থেকে ডায়েরিটি তাঁর হাতছাড়া হয়েছে, সে বিষয়েও শিবপ্রকাশ নিশ্চিত হতে পারেননি। মঞ্চে ওঠার আগে যে ঘরে বসেছিলেন সেখানে ফেলে এসেছেন কি না তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন।

মঞ্চে থাকাকালীন, না কি মধ্যাহ্নভোজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় ডায়রিটি বেহাত হয়েছে তা-ও তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রতিটি জায়গাতেই তন্নতন্ন করে খোঁজ চালানো হয়েছে। কিন্তু হলুদ ডায়েরি মেলেনি। ডায়েরিতে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সাংগঠনিক তথ্য থাকতে পারে। তা বেহাত হওয়ায় বিজেপি নেতাদের চিন্তা বেড়েছে। বিষয়টি কতটা চিন্তার হতে পারে, সে বিষয়ে বিজেপির অন্দরেও জোর চর্চা চলছে।


Share