Hooliganism

‘আমরা বিজেপি করি’, মিষ্টি পছন্দ না হওয়ায় দোকানে ঢুকে তাণ্ডব, বালিগঞ্জে বিজেপি নেতার ‘দাদাগিরি’, থানায় অভিযোগ দায়ের

স্থানীয় এক বিজেপি যুবনেতা ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে বালিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘গুপ্তা ব্রাদার্স’-এর দোকানে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, তাঁরা মিষ্টি কিনতে এসে পছন্দ না হওয়ায় দোকানে গন্ডগোল শুরু করেন।

মিষ্টি পছন্দ না হওয়ায় দোকানে ঢুকে তাণ্ডব, বালিগঞ্জে বিজেপি নেতার ‘দাদাগিরি’।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:০৮

‘আমরা বিজেপি করি। বাইরে আয় তার পর দেখছি।’ বালিগঞ্জের নামী মিষ্টির দোকানে কার্যত তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম বিবেক ত্রিপাঠি। তিনি বালিগঞ্জ বিধানসভার ১ নম্বর মন্ডলের যুবমোর্চার সভাপতি। ঘটনায় দুই কর্মী জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মিষ্টি পছন্দ না হওয়ায় এই কান্ড তাঁরা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দোকানের এক কোষাধ্যক্ষের কথায়, বিবেক ও তাঁর দলবল বালিগঞ্জের একটি নামী মিষ্টির দোকানে যান। তাঁরা একটি করে কাজু বরফি এবং একটি গোলাপজাম দিতে বলে। সেই মতো দেওয়া হয়। এরপরে বিবেক জানতে চান, এই গোলাপজামন মিষ্টি কবে কার জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ‘একেবারে টাটকা’। মিষ্টি দিনের দিন এইগুলি বানানো হয়। এর মধ্যেই বিজেপি নেতা গালিগালাজ শুরু করে দেন। তাঁর দাবি, মিষ্টি খারাপ শুনে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। বলি হয়, কমপ্লিমেন্ট হিসেবে তাঁদের আরও মিষ্টি দেওয়ার। অকথ‍্য ভাষায় গালিগালাজ করায় তার প্রতিবাদ করতেই তাঁকে সপাটে চড় মারে বিজেপি নেতা। এমনকী, দোকানের ম‍্যানেজার বাধা দিতে গিয়ে তিনিও মার খেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দোকানের আক্রান্ত কোষাধ্যক্ষ বলেন, “ও (বিজেপি নেতা বিবেক ত্রিপাঠি) বলে যে দোকানের বাইরে আয়। আমরা বিজেপি করি। তখনও আমরা সরি বলেছিলাম।” তাঁর হাতের আঙুল ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কড়েয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।

ওই দোকানের ম্যানেজার বলেন, “ক্যাশিয়ার আমার কাছে এসে বলে যে কাস্টমার বলছে গোলাপজামটা খারাপ। আমি বললাম ঠিক আছে বদল করে দাও। কেন এটা হল? অন্য কাস্টমারও খেয়েছে। তাঁরা বলছে খারাপ বলল না। আমার আসার আগে বিজেপি নেতার সঙ্গে আসা স্থানীয় ছেলেরা মিলে কোষাধ্যক্ষকে মেরেছে। বিজেপি করে বলে হুমকি দিয়েছি। আমরা ১২০ বছর ধরে দোকান করে যাচ্ছি। কোনও দিন এমন হয়নি।”

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন হয়েছে। কী কাজ হয়েছে, আর কী হয়নি তা তুলে ধরে বিজেপি মঙ্গলবার একটি বুকলেট প্রকাশ করে নিজেদের সাফল্যের খতিয়ান পেশ করেছে। এক দিকে যেমন সেই প্রচার চলছে অন‍্য দিকে বিজেপি নেতার দাদাগিরির ছবি প্রকাশ্যে এল।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা বলে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখেও বারবার শোনা গিয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা। ক্ষমতার অপব্যবহার কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এমন স্পষ্ট বার্তা থাকলেও, মাঠপর্যায়ে দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের ধমকানি ও দাদাগিরির অভিযোগ যে এখনও পুরোপুরি থামেনি, বালিগঞ্জের এই ঘটনাই ফের তা সামনে এনে দিল।

দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানো কিংবা বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ করা হবে আগেই শমীক ভট্টাচার্য এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এখন দেখার, খাস কলকাতায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ কর্মচারীদের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবনেতা বিবেক ত্রিপাঠির বিরুদ্ধে দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে।


Share