Business Strategy

আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক-যুদ্ধ, ৫০% পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার! ভারতমুখী কার্নে সরকার

সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, ইস্পাত-সহ বেশ কিছু পণ্যের উপর মার্কিন বাজারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবেই কানাডা এ বার পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিল।

(বাঁ দিক থেকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্ক কার্নে এবং নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ০২:২৮

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ বার সরাসরি বাণিজ্য সংঘাতে জড়াল আমেরিকা ও কানাডা। ওয়াশিংটনের পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওটাওয়া। মার্ক কার্নের প্রশাসন জানিয়েছে, কানাডার বাজারে আমেরিকার পণ্যের উপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হবে। একই সঙ্গে আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেও কানাডা আগ্রহ দেখিয়েছে।

গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য-যুদ্ধ চলছে। একে অপরের পণ্যের উপর দফায় দফায় শুল্ক চাপিয়েছে দুই দেশ। অন্যান্য দেশগুলির উপরও বিশ্ব অর্থনীতির দুই প্রধান শক্তির এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছিল। এ বার ফের নতুন করে শুল্ক-সংঘাতে জড়াল ওয়াশিংটন তবে এ বার চিন নয়, কানাডার সঙ্গে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা বাণিজ্য-আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আমেরিকা ও কানাডার সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, ইস্পাত-সহ বেশ কিছু পণ্যের উপর মার্কিন বাজারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবেই কানাডা এ বার পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিল।

ইস্পাত, কৃষি যন্ত্রপাতি, দুগ্ধজাত পণ্য-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় আমেরিকার পণ্যের উপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কানাডা পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। কানাডার এই সিদ্ধান্তের পর কার্নে সরকারের অর্থমন্ত্রী ফ্র্যাঙ্কোস-ফিলিপ শ্যাম্পেন মঙ্গলবার রাতে (ভারতীয় সময়) সাংবাদিক বৈঠক করেন। আমেরিকার চাপানো শুল্ককে তিনি ‘কানাডার সামনে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেন। শ্যাম্পেনের কথায়, “আমরা এই সংঘাত চাইনি। কিন্তু অর্থনীতিকে পারস্পরিক লাভজনক ক্ষেত্রে ব্যবহার না-করে যখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তার বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।”

কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য আর আমেরিকার উপর নির্ভর করে থাকতে চায় না ওটাওয়া। জোলির কথায়, “আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা স্থির করার জন্য আমরা ওয়াশিংটনের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারব না।” এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা-নির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর উপর তিনি জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি, কানাডার শিল্পমন্ত্রী অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তাও দিয়েছেন। এরই মধ্যে কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেন আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনাচক্রে, ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বর্তমানে কানাডায় রয়েছেন। বুধবার কানাডার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বসার কথা। তার আগেই ওটাওয়া ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করল। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, “১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমি আলোচনায় বসব। আমি চাই (তাঁরা) কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য করুন। আমরাও যেন সে দেশে বড় কিছু করতে পারি।” আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক-সংঘাতের আবহে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কানাডা নিজেদের নির্ভরতা কমিয়ে আরও বৈচিত্র আনার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে কানাডার আগ্রহকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।


Share