Nepal Flood

নেপালে বিপর্যয়ের নিখোঁজ কলকাতার ৩২ জন, বিশেষ দল পাঠাচ্ছে রাজ‍্য পুলিশ, হেল্পলাইন নম্বর চালু করল নবান্ন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নেপালের আকস্মিক ভয়াবহ হড়পাবানে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যাঁরা তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু বা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সকল শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও সেখানকার ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দাদের জন্যে প্রার্থনা করি।”

বিপর্যস্ত নেপাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৪

হরপা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। কলকাতা থেকে ৩২ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সারা রাজ্য থেকে মোট ১০০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। পর্যটকদের সাহায্য করতে ১২টি বিশেষ দল পাঠিয়েছে রাজ‍্য পুলিশ। তাঁরা সবাই বেড়াতে গিয়েছিলেন।

এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের এক কর্তা জানান, এ রাজ্যেও রেড আলার জারি করা হয়েছে। মূলত উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি। তার জন‍্য সেখানে ক্যাম্প করা হয়েছে। ১০ থেকে ১২টির মত ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ক্যাম্পের দায়িত্বে ভলেন্টিয়ার, রাজ্য পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী থাকছে। ওই পুলিশকর্তা বলেন, “বন্যার ভয়াবহতার পরিমাণ বাড়লে এবং উত্তরবঙ্গের প্রভাব আসলে যাতে তার মোকাবিলা যাতে ঠিকমতো করা যায় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

কলকাতা থেকে ১২ জনের একটি পর্যটকের দল নেপালে গিয়েছিল। তার মধ্যে ৩০ জন পর্যটক এবং দু’জন ভ্রমণ সংস্থার কর্মী ছিলেন। পর্যটকদের এক জন মানস সরোবর দর্শনের জন্য সুদূর আমেরিকা থেকে এসেছিলেন। যদিও তিনি ভারতীয় নাগরিক। জানা গিয়েছে, গত ২১ তারিখ দলটি কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিল। ২২ অগস্ট নেপালে পৌঁছোয়। ভ্রমণ সংস্থার তরফে দিব্যজ্যোতি বসু জানান, মঙ্গলবার দলটি কাঠমান্ডুতে ছিল। সেখান থেকে তাঁরা ছবি এবং ভিডিয়োও পাঠিয়েছিলেন। বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দলটি অভিবাসন দফতরে ছিল। কিন্তু তার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দল থেকেও কেউ যোগাযোগ করেননি।

ভ্রমণ সংস্থার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ভাবে একটি সংস্থা মানস সরোবর অভিযানের সমস্ত ব্যবস্থাপনা করে। তারা বিপর্যয়ের খবর পেয়েই হেলিকপ্টার নিয়ে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় কারণে ঘটনাস্থলে নামা যায়নি। নেপাল ট্যুরিজম এবং সে দেশের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কলকাতার এই পর্যটকদলের খোঁজ কেউ দিতে পারেননি।

নেপালের বিপর্যয়ে এ রাজ্যের যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, রাজ্য পুলিশ একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষ বা তাঁর পরিবারের সদস্যেরা রাজ্য সরকারের দু’টি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন— ০৩৩-২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১। দুর্যোগ কবলিত এবং তাঁদের পরিবারের সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করেছে কলকাতা পুলিশও। কোনও তথ্য জানার জন্য বা সাহায্যের জন্য১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। হোয়াট্‌সঅ্যাপে যোগাযোগ করা যাবে ৯৮৭৪৯০২৮৮০ নম্বরে। এ ছাড়া, নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর— +৯৭৭-৯৮৫১৩১৬৮০৭ এবং +৯৭৭-৯৭০৯১০৭৫০০। ডিজি কন্ট্রোলের নম্বর— ৯১৭৪৮৯০১৪৫। ভবানীভবনের কন্ট্রোলরুমের নম্বর— ০৩৩-২৪৭৯৪০৪৪ এবং ৯১৪৭৮৯০১৪৬।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ‍্যমে লেখেন, “১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক তথা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের  নিখোঁজ হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন সেই সকল তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের অথবা কর্মসূত্রে যাওয়া ব্যবসায়ী ও কর্মীরা যারা এই দুর্যোগের দিনে বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন সেই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কাঠমান্ডু স্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও নেপালের প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। রাজ্যের কতজন বাসিন্দা এই দুর্ঘটনায় প্রভাবিত বা নিখোঁজ সেই বিষয়টি সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ক্রমাগত সঠিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে যাতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নেপালের আকস্মিক ভয়াবহ হড়পাবানে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যাঁরা তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু বা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সকল শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও সেখানকার ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দাদের জন্যে প্রার্থনা করি।”


Share