BJP Reshuffle

অমিত ‘আউট’, দীপক ‘ইন’, অবশেষে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল, তালিকায় জায়গা পেলেন মনোজ ও মধুছন্দা

বিজেপি সূত্রে খবর, এই রদবদলের লক্ষ্যই হল নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসা এবং দলীয় নেতৃত্বে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। পাশাপাশি আগামী ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রদবদল করা হল বলেও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০৮

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় রদবদল হল ৷ বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্ব থেকে সরানো হল অমিত মালব‍্যকে। তাঁর জায়গায় দীপক মাস্কেকে দলের আইটি সেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দলের সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন। অন্য দিকে, নিতিন নবীনের টিমে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মনোজ টিগ্গা, মধুছন্দা করকে রাখা হয়েছে।

বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন স্তরে রদবদল হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, বিজেপি নেতা রাম মাধবকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতি ইরানি এবং বিপ্লব দেবকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিনোদ তাওয়াড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র পটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। নিতিন নবীনের নেতৃত্বাধীন দলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন

বিএল সন্তোষ সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবেই নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। দলের কোষাধ্যক্ষ করা হচ্ছে পীযূষ গোয়েলকে। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই রদবদলের লক্ষ্যই হল নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসা এবং দলীয় নেতৃত্বে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। পাশাপাশি আগামী ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রদবদল করা হল বলেও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কে, কোন পদে?

স্মৃতি ইরানি: দলের শীর্ষ কমিটিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটছে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে।

রাম মাধব: সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিদের মধ্যে তাঁকে নিয়োগ করেছেন নিতিন নবীন।

বসুন্ধরা রাজে: মূল নেতৃত্বের তালিকায় তাঁকে বহাল রাখা হয়েছে ৷ তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

দীপক মাস্কে: ছত্তীসগঢ় থেকে এনে তাঁকে নতুন আইটি সেল প্রধান করা হয়েছে। এর আগে এই পদে অমিত মালব‍্য ছিলেন।

সঞ্জয় ভাটিয়া ও হরিশ দ্বিবেদী: দলের 'নতুন মুখ' হিসেবে তুলে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁদের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসল: সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁদের শক্তিশালী অবস্থান সফল ভাবে ধরে রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে সুনীল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাঁর ওপরে এ বারও দল ভরসা রেখেছে।

অনিল বালুনি: ফের তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে ৷ দলের মিডিয়া-ইন-চার্জের দায়িত্বে থাকবেন।

চলতি বছরে জানুয়ারিতে বিজেপির ১৬তম জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন নিতিন নবীন। তিনি দলের আইটি সেল প্রধানের পদ থেকে অমিত মালব্যকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর জায়গায় বিজেপির জাতীয় আইটি সেল প্রধান হিসেবে এসেছেন দীপক মাস্কে। তিনি ছত্তীসগঢ়ের নেতা। তিনি এর আগে বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক আইটি সেলের কৌশল পরিচালনার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিজেপির সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে চার সদস্যের একটি 'মার্গদর্শক মণ্ডলী' (উপদেষ্টা পর্ষদ) রয়েছে। এই দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী ও মুরলীমনোহর জোশী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ রয়েছেন। এই চারজন দলের পথপ্রদর্শক মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেন। দলের প্রতি তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করেন।

মার্গদর্শক মণ্ডলীর পরেই রয়েছে ১২ সদস্যের সংসদীয় বোর্ড। যার সভাপতিত্বও করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বোর্ডে মন্ত্রী এবং দলের প্রভাবশালী সাংগঠনিক নেতাদের সমন্বয় তৈরি হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নিতিন নবীন, রাজনাথ সিংহ, অমিত শাহ, জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, ওবিসি সেলের প্রধান কে লক্ষ্মণ, পঞ্জাবের ইকবাল সিংহ লালপুরা, হরিয়ানার সুধা যাদব, মধ্যপ্রদেশের নেতা সত্যনারায়ণ জাটিয়া এবং বিএল সন্তোষ।

এর পরের স্তরে রয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। এই কমিটির সভাপতিত্বও করেন নরেন্দ্র মোদী। এই কমিটিতে সংসদীয় বোর্ডের ১২ জন সদস্যের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার প্রধান বনথি শ্রীনিবাসন। দলের ১১ জন সহ-সভাপতিও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বসুন্ধরা রাজে এবং সাংসদ বৈজয়ন্ত পাণ্ডা। এরপর রয়েছেন দলের আটজন সাধারণ সম্পাদক, যাঁদের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।


Share