Price Hike

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রেশন দোকানেই মিলবে নিত্যপণ্য! কম দামে সামগ্রী বিক্রির প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের

খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে রেশন দোকানগুলিকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে কম দামে চাল-গম, ওষুধ, গ্যাস সিলিন্ডার-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠন

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৪

খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া। এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রেশন দোকানগুলিকে আরও বেশি কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন। সংগঠনের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে রেশন দোকানের মাধ্যমে কম দামে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু এই প্রস্তাবের কথা জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সরকারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চায় রেশন ডিলারদের সংগঠন। তাঁদের দাবি, রাজ্যজুড়ে রেশন দোকানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও এই দোকানগুলি রয়েছে। তাই এই পরিকাঠামোকে কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

সংগঠনের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত চাল ও গম বরাদ্দের ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টাইড-ওভার অ্যালোকেশন’-এর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই চাল ও গম তুলনামূলক কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।

রেশন দোকানে প্রধানমন্ত্রী জনপোষণ কেন্দ্র চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি কম দামে ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে সংগঠন। এছাড়াও পাঁচ কেজি ওজনের নন-সাবসিডাইজড গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের প্রস্তাব রয়েছে। রেশন দোকান থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী বিক্রির অনুমোদনও চাওয়া হয়েছে।

সংগঠনের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে রেশন ডিলারদের পরিকাঠামো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। একটি বিকল্প বণ্টন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে। চিঠিতে সংগঠন জানিয়েছে, অনুমতি মিললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কার্যকর বণ্টন ব্যবস্থার রূপরেখাও তৈরি করতে প্রস্তুত তারা। সংগঠনের দাবি, এই মুহূর্তে ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবগুলি নিয়ে দ্রুত আলোচনার আবেদন জানানো হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকারও দাবি জানিয়েছে সংগঠন।

চিঠির প্রতিলিপি খাদ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।


Share