Money Laundering

ভুয়ো সংস্থার ব‍্যবহার করে ৫০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার! ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের, পুলিশের স্ক‍্যানারে দুই চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানান, “ঘটনায় তাঁরা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪০

জাল নথি তৈরি করে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠল দুই চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিরুদ্ধে। তাঁরা সর্ম্পকে ভাই-বোন। অভিযোগ, টাকা পাচার করতে বেশ কয়েকটি ভুয়ো সংস্থার নামে অ‍্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। আয়কর দফতরের অভিযানের পরে এই ঘটনা সামনে এসেছে।

ওই চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মটি কাঁকুড়গাছির কদাপাড়া এলাকার। ফার্মের অ‍্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন নজরে আসায় কয়েক দিন আগে আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা অভিযান চালান। তল্লাশির সময় সংস্থার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ নথি এবং একাধিক সার্টিফিকেট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে টাকা পাঠানোর অনুমোদনের ক্ষেত্রে ওই সার্টিফিকেটগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু যাচাই করে দেখা যায়, সার্টিফিকেটগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি জাল।

বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে চুক্তি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, হিসাবের খাতা এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের ওপর প্রযোজ্য কর-সহ একাধিক বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, ওই ফার্মে তল্লাশি থেকে পাওয়া সার্টিফিকেটগুলি আদৌ কোনও বৈধ লেনদেনের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি। তা তৈরি করতে অস্তিত্বহীন ও ভুয়ো সংস্থার সঙ্গে লেনদেন দেখানো হয়েছিল।

ওই সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই গত ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ৫৫৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৫১ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ভাই-বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আয়কর আধিকারিকেরা। ফুলবাগান থানায় দায়ের করা অভিযোগ দায়ের করেছে আয়কর দফতর। তাদের দাবি, জেরায় তাঁরা স্বীকার করেছেন যে টাকা পাঠানো ব্যক্তিদের কোনও হিসাবের খাতা বা নথি যাচাই না করেই ওই জাল সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও বড় একটি চক্র রয়েছে। অভিযুক্ত দুই ভাই-বোনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন ভাবে বিদেশে টাকা পাচারে সহযোগিতা করেছে বলে সন্দেহ করেছেন। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তাঁদেরও খোঁজ শুরু হয়েছে। ওই দুই অ্যাকাউন্ট্যান্টকে জিজ্ঞাসাবাদের ডাকা হতে পারে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানান, “ঘটনায় তাঁরা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”


Share