Disability Allowance

কেনা হল না খোল-কর্তাল, ১০ ডিজিটের কাল্পনিক অ্যাকাউন্টে মানবিক ভাতা! নদিয়ায় প্রতারণার অভিযোগ দৃষ্টিহীন দম্পতির, দ্বারস্থ হলেন মহকুমাশাসকের

নদিয়ায় ১০০ শতাংশ দৃষ্টিহীন দম্পতির মানবিক ভাতা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি নথিতে মাত্র ১০ ডিজিটের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ভাতা না পেয়ে অনিয়মের তদন্ত এবং প্রাপ্য টাকা পাওয়ার দাবিতে মহকুমাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ জানাতে চলেছেন দম্পতি।

অভিযোগকারী সন্তোষ বিশ্বাস ও সঙ্গীতা বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৫

সরকারি নথিতে নিয়মিত জমা পড়ছে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা। অথচ সেই টাকা বাস্তবে হাতে পাচ্ছেন না প্রাপক। নদিয়ার নবীনপল্লী (কালভার্ট) এলাকার ঘটনা। সন্তোষ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা বিশ্বাসের অভিযোগ, সরকারি নথিতে তাঁদের একটি ব্যাঙ্কের ১০ ডিজিটের অ্যাকাউন্ট নম্বর রয়েছে। যা কার্যত অসম্ভব। তা দেখিয়ে ভাতার টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। 

সন্তোষ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা ১০০ শতাংশ দৃষ্টিহীন। সন্তোষবাবুর বক্তব্য, বহুদিন আগেই তিনি সরকারি ‘মানবিক ভাতা’র জন্য আবেদন করেছিলেন। সম্প্রতি সরকারি আধিকারিকেরা তাঁর বাড়িতে আসেন। তাঁদের আধার কার্ড-সহ বাকি নথিপত্র যাচাই করেন। সেই সময় আধিকারিকেরা তাঁকে জানান, তাঁর স্টেট ব্যাঙ্ককে সুত্রাগড় শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত মানবিক ভাতার টাকা জমা পড়ছে।

এরপর ব্যাঙ্কে গিয়ে পাসবই আপডেট করেন। তার পরেই সন্দেহ তৈরি হয়। সন্তোষবাবুর দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টে ‘মানবিক ভাতা’ টাকা জমা পড়ার কোনও রেকর্ডই নেই। পরে একটি সাইবার ক্যাফে থেকে সরকারি পোর্টালে অনলাইনে স্ট্যাটাস পরীক্ষা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তিনি জানতে পারেন, সন্তোষবাবুর নামের সঙ্গে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি যুক্ত রয়েছে, সেটি মাত্র ১০ ডিজিটের।

সাধারণত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের নির্দিষ্ট ডিজিট থাকে। স্টেট ব‍্যাঙ্কের ক্ষেত্রে তা ১১টি ডিজিট থাকে। ফলে মাত্র ১০ ডিজিটের অ‍্যাকাউন্টের নম্বর হওয়াটা অসম্ভব। এমন একটি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কীভাবে মাসের পর মাস সরকারি ভাতার টাকা অনুমোদন ও জমা দেখানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই টাকা আদৌ কোথায় গেল, তা কি আবার সরকারি টাকায় ফিরত চলে গিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথিতে এমন ভুলের দায় কার তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। 

অন্য দিকে, দৃষ্টিহীন এই দম্পতির ঘরে মাত্র ছ’মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। তাঁরা চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে রয়েছেন। সন্তোষবাবুর আক্ষেপ, তিনি সময়মতো ভাতার টাকা পেলে একটি পুরনো খোল কিনতেন। তা নিয়ে কীর্তন গেয়ে অর্থ উপার্জন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ভাতার টাকা না পাওয়ায় সেই আশাও কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সন্তোষবাবুর মা অঞ্জনা বিশ্বাসের অভিযোগ, প্রকৃত অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকায় বহু সুস্থ-সবল ব্যক্তি ভুয়ো নথির মাধ্যমে ভাতা পাচ্ছেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অতীতে কাটমানির মাধ্যমে ভুয়ো তালিকা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ায় ভুয়ো সুবিধাভোগীদের মধ্যে নাম প্রত্যাহারের তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও স্থানীয়েরা দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এ বার সরাসরি মহকুমাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্তোষ বিশ্বাস ও তাঁর পরিবার। তাঁর দাবি বকেয়া ভাতা তাঁকে দেওয়া হোক। 

ভুয়ো বা ভুল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে সরকারি ভাতার টাকা অনুমোদিত হল, এর পিছনে কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে কি না— তা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি অবিলম্বে প্রকৃত উপভোক্তাকে মানবিক ভাতা দেওয়ারও দাবি উঠেছে।


Share