Mamata Banerjee

‘এখানে নাটক করবেন না’, হাই কোর্টের এজলাসে সওয়ালের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ, মমতার ‘নাটক’ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

এক আইজীবী বলেন, “এখানে নাটক করবেন না।” এর পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন। তাই সেই হিসেবেই তিনি সওয়াল করতে চান।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৩:৫২

ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কালো কোর্ট পরে কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করতে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও তাঁকে শুনতে হল কটাক্ষ। সওয়াল শুরু করতেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে এক আইনজীবী বলেন, ‘এখানে নাটক করবেন না।’

এ বারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনের পরে স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের মুখে বেশ কয়েকটি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরে কার্যত ‘সন্ত্রাসের’ ছবি উঠে এসেছিল। রাজ‍্যজুড়ে ১২ হাজারের বেশি এফআইআর হয়েছিল। এ বারে ছবিটা একেবারেই উল্টো। তার পরেও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে তৃণমূল।

বৃহস্পতিবার সকালে কালো কোর্ট পরে আচমকাই কলকাতা হাই কোর্টে হাজির হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলাটির শুনানি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তাঁকে নাকি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে পুলিশ অভিযোগ জানাতে হচ্ছে। কিন্তু তাতে কিছু হচ্ছে না। এমন কোনও ঘটনার নিদর্শন না থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ‍্যে নাকি মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলার মানুষকে বাঁচানোর আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

সেই সময় মমতার উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দেন এক আইনজীবী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এখানে নাটক করবেন না।” এর পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন। তাই সেই হিসেবেই তিনি সওয়াল করতে চান।

যদিও পাল্টা সওয়াল করে পুলিশের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, “এই মামলাটি পুরানো ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের মামলার সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। কোথায় কোথায় অশান্তি হয়েছে সেগুলি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। দু’হাজারটি গন্ডগোলের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তালিকা বিস্তারিত নেই। কারা পীড়িত, কারা অভিযুক্ত স্পষ্ট নয়। পুলিশ কাজ করছে। কেউ অপরাধ করলে পুলিশ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে এবং নিচ্ছে। যেখানে যা গন্ডগোল হচ্ছে, তার সবটাই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি।” 

নিউটাউনে বুলডোজার চালানো নিয়ে পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। সরকারের কোনও বুলডোজার কাঠামো ভাঙতে চায়নি। ওই ঘটনায় ন'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনা খতিয়ে দেখে হলফনামা পেশ করা হবে বলে জানানো হয়। তিনজলায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার ঘটনা আদৌ ভোট পরবর্তী হিংসার মধ্যে পড়ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে পুলিশ। কলকাতা আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা আদালতের ওয়েবসাইটি আপলোড করে দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।


Share