Post Poll Violence

ভোটের মিটতেই উত্তপ্ত ভাঙড়, তৃণমূল কর্মীর দোকানে ভাঙচুর করে আগুন লাগানোর অভিযোগ আইএসএফের বিরুদ্ধে

ভাঙড়ের নলমুড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে এক তৃণমূল কর্মীর দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভাঙড়
  • শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৪:৫৪

ভোটের পরে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। অভিযোগ, সেখানে এক তৃণমূল কর্মীর দোকানে ভাঙচুর করা হয়। তার পর সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আইএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও নওশাদের দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভাঙড়ের নলমুড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। তৃণমূল কর্মী মহিবুল মোল্লার অভিযোগ, নলমুড়ি এলাকায় তাঁর ইলেকট্রিক সরঞ্জামের দোকান রয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই দোকানের ভিতরে থাকা সমস্ত নতুন-পুরোনো ইলেকট্রিকের সামগ্রী নিয়ে খালের জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার পরে দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। ভাঙড় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

গোটা ঘটনার দায় নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফের বিরুদ্ধে উঠেছে। দোকানের মালিক ও তৃণমূল কর্মী মহিবুল মোল্লা বলেন, “কাল রাত ৭টার দিকে ঘটকপুকুরে আরাবুল যে অফিসটা করেছেন, সেখান থেকে এক্সিট পোল (বুথ ফেরত সমীক্ষা) দেখে মিষ্টি খায়। ওখান থেকে আরাবুল বার্তা দিয়েছেন, তৃণমূলের যারা আছে, তাঁদের দোকান-বাড়ি লুঠ কর। আমরা ভাঙড়, ক্যানিং দু’টোই জিতছি। বিজেপি সরকারে আসবে। তৃণমূল সরকার থাকবে না। ওই বার্তা শুনে বুথে বুথে আইএসএফের যারা কর্মী যাঁরা আছেন তাঁরা রাহুলের নেতৃত্বে আমার দোকানে হামলা করেছে। দোকানের ইলেক্ট্রিকের সরঞ্জাম, নতুন-পুরনো জিনিস সব খালে ফেলে দিয়েছে। এরপর পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।" 

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা রাহুল মোল্লা। রাহুল বলেন, "এটা হাস্যকর ব্যাপার। কারণ যে দোকানটার কথা বলছেন, সেটা খালি জায়গায় করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের এমন দিন আসেনি যে কোনও এক কর্মীর যে দোকানে কিছু নেই সেখানে আগুন ধরাতে হবে।” আইএসএফ নেতা রাহুল মোল্লার বক্তব্য, “গ্রামের মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছে, এই ভোটে মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছেন, ওরা কোথায় পালাবে সে রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না। গ্রামের মানুষের ওপর যা অত্যাচার করেছে গ্রামের মানুষ ওদেরকে ছাড়বে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ওরা নিজেরাই দোকানে আগুন ধরিয়ে আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।"

দ্বিতীয় দফার ভোটে মোটের ওপরে শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে। ভাঙড়ে কোনও বোমাবাজি হয়নি। খুনোখুনি বা রক্ত ঝরেনি। ভাঙড় এক অন্য ধরণের ভোটের সাক্ষী থেকেছে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিতেই সেখানকার ভোট মিটেছে। উৎসবের মেজাজে ভাঙড়ের বাসিন্দারা ভোট দিয়েছেন।


Share