Tapsia Fire Case

তপসিয়া অগ্নিকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড দমকল আধিকারিক গৌতম দাস, শুরু বিভাগীয় তদন্ত

কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের স্টেশন অফিসার তথা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১১:১৪

তপসিয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জেরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্যের দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতর। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের স্টেশন অফিসার তথা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বুধবার দমকল বিভাগের ডিজির তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের অধীনে নজরদারি, পরিদর্শন এবং অগ্নি-নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। সেই কারণেই গৌতম দাসকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দফতরের পক্ষ থেকে।

নিলম্বিত অবস্থায় গৌতম দাসকে দমকলের সদর দফতরেই থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি সদর দফতর ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের একটি বহুতলের দ্বিতীয় তলায় থাকা চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা অংশে। কারখানার ভিতরে আটকে পড়েন কয়েক জন শ্রমিক। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন দেখতে পেয়ে দমকলে খবর দেন। সূত্রের খবর, দুপুর পৌনে দু'টো নাগাদ আগুন লাগার খবর পৌঁছয় দমকলের কাছে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুনের তীব্রতার কারণে ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। পরে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার থেকেই প্রশাসনের তরফে শুরু হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জেসিবি। শুরু হয় বহুতলটি ভাঙার কাজ। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভবনটি অবৈধ ভাবে নির্মিত হয়েছিল। তাই তা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার নির্দেশও দেন তিনি। বিশেষ ভাবে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর এবং একবালপুর এলাকার নাম উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অবৈধ নির্মাণগুলিতে বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং যাঁদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন, তাঁদের এখনই সাবধান হওয়া উচিত।


Share