Beldanga Incident

ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র বেলডাঙা, ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ, জাতীয় সড়ক অবরোধ

বেলডাঙার যুবক ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করত। বৃহস্পতিবার সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রামে খবর পৌঁছোতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভকারীরা বেশিরভাগই তৃণমূল কর্মী বলে দাবি। শুক্রবার সকাল থেকে বিক্ষোভ চলছে।

রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০০

ঝাড়খন্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। সকালে তার দেহ গ্রামে ফিরতেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে স্থানীয়েরা অবরোধ করে। এমনকী, ট্রেন লক্ষ‍্য করে পরপর পাথর ছোঁড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মৃত যুবকের নাম আলাই শেখ। আলাই ঝাড়খন্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করত। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়খণ্ডের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঝাড়খন্ড পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না তা স্পষ্ট করেনি পরিবারের লোকজন।

শুক্রবার সকালে আলাইয়ের দেহ গ্রামে নিয়ে আসা হয়। এর পরেই উত্তেজনা ছড়ায়। বেলডাঙা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে এলাকার জড়ো হয়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীরা অধিকাংশই তৃণমূল সমর্থক। এর পরেই সেখান থেকে একদল গিয়ে বেলভাঙা স্টেশন অবরোধ করে। মহেশপুরের কাছে একটি ট্রেন আটকে দেওয়া হয়। সেই ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ চলায় কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ। তিন ঘন্টার বেশি হয়ে গেলেও এখনও অবরোধ ওঠেনি। অবরোধ তুলতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সমাজমাধ‍্যমে লিখেছেন, “তিন ঘন্টা ধরে বেলডাঙার জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। জোর করে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে। গোটা এলাকাটি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দখলে চলে গিয়েছে।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, “এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। খাদ্য ও পানীয় জল ছাড়া তাঁদের থাকতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের কোনও আশা দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের তৎপরতার কোনও চিহ্ন সেখানে নেই।” তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিতে রাজ‍্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে উদ্দেশ্য করে বার্তাও দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।


Share