Political Clash

‘আমার ভুল হয়েছে ম্যাডাম’ মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে কার্টুন হোর্ডিং, কালীঘাটে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত

হোর্ডিংয়ে কার্টুনের আকারে দেখা যাচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মাটিতে পড়ে গিয়েছেন এবং বাঁচার চেষ্টা করছেন। তাঁর উপর ঝুঁকে রয়েছে এক মহিলার মুষ্টিবদ্ধ হাত, যা তাঁকে চেপে ধরেছে। সেই হাতের উপর লেখা ‘বাঘিনী’। পাশে লেখা ‘আমার ভুল হয়েছে, ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম’।

কালীঘাটের হোর্ডিং
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালীঘাট
  • শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৫

দু’দিন পরেই রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই প্রতিনিধি দলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারেরও। আর ঠিক তার আগেই কালীঘাট এলাকায় একাধিক বিতর্কিত হোর্ডিং ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। এদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যে রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও রাজপথে ধর্ণায় বসেছেন। সেই আবহেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কালীঘাটের ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে লাগানো হয়েছে ওই হোর্ডিংগুলি।

হোর্ডিংয়ে কার্টুনের আকারে দেখা যাচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মাটিতে পড়ে গিয়েছেন এবং বাঁচার চেষ্টা করছেন। তাঁর উপর ঝুঁকে রয়েছে এক মহিলার মুষ্টিবদ্ধ হাত, যা তাঁকে চেপে ধরেছে। সেই হাতের উপর লেখা ‘বাঘিনী’। পাশে লেখা ‘আমার ভুল হয়েছে, ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম’। প্রতিবাদী ওই হাতের শাড়ির আঁচলে নীল-সাদা রং স্পষ্ট, যা রাজ্যের শাসক দলের রঙের সঙ্গেই মেলে। যদিও পুরো ছবিটিই কার্টুন আঙ্গিকে তৈরি। ব্যানারে আদালতের বিচারপতির ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে ওই হাত কার তা নিয়ে শাসক দল ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি বাংলার মায়ের হাত, বাংলার মেয়েদের প্রতিবাদের প্রতীক। তাদের বক্তব্য, এসআইআর-এর নামে রাজ্যে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ, তারই প্রতিফলন এই প্রতিবাদী হাত। বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রবীর মুখোপাধ্যায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে আন্দোলনে নেমেছেন, এই হোর্ডিং সেই রাজনৈতিক লড়াইয়েরই প্রতীক।

অন্যদিকে গেরুয়া শিবির এই হোর্ডিংকে ‘অশালীন’ এবং ‘অমার্জনীয়’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের দাবি, ভারতের গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাকে এভাবে অপমান করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ভয় দেখাতেই এই ধরনের আক্রমণাত্মক হোর্ডিং লাগানো হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরের আগে এই হোর্ডিং যে নজরে আসবে, তা তৃণমূল শিবিরের অজানা ছিল না। বরং সচেতনভাবেই এমন জায়গায় হোর্ডিং দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানুষের যাতায়াত বেশি যাতে বিষয়টি দ্রুত জনচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে এবং নির্বাচনের আগে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়।


Share