Humayun Kabir

মাদক পাচারের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরের বেয়াইয়ের দশ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ়, শুরু বাজেয়াপ্ত প্রক্রিয়া

পুলিশের দাবি, বেআইনি মাদক কারবারের অর্থে গত কয়েক বছরে এই সম্পত্তি অর্জিত হয়েছে। যদিও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করে আইনি লড়াইয়ের পথে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

হুমায়ুন কবীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১২

মাদক পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেএইপি) প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম। তিনি ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের কন্যার শ্বশুর। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শরিফুল ইসলামের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি চিহ্নিত করেছে। সব মিলিয়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার উদ্যোগে প্রায় দশ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশের দাবি, গত সাত বছরে বেআইনি মাদক কারবারের মাধ্যমে শরিফুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জন করেছেন। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, গত বছরের ২৫ মার্চ শরিফুলের বাড়ির কাছে তাঁর এক আত্মীয় জিয়াউর রহমানকে প্রায় ৫০০ গ্রাম মাদক-সহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই মাদক কারবারের নেপথ্যে শরিফুলের ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে পুলিশের দাবি।

অভিযোগ, মাদক পাচার থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে লালগোলার নলডহরি-সহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, বাড়ি ও একাধিক বাণিজ্যিক সম্পত্তি কেনা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই এই সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর সোমবার দুপুর থেকে মোট ১৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করে বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু করে পুলিশ। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে, যেগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে ভাড়া দেওয়া।

প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহ আগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সামনে পুলিশের ঘনঘন যাতায়াত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সে সময় তিনি দাবি করেন, তাঁর বেয়াই একটি ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ করবেন।

এ দিন সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, “ধৃত জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার মেয়ের শ্বশুরের কোনও ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই আমাদের পরিবারকে হেয় করতে এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, “বেয়াইয়ের ইটভাটা রয়েছে, জমি কেনাবেচার বৈধ ব্যবসা রয়েছে এবং তাঁরা নিয়মিত আয়কর দেন। পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।” অন্যদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবেই বেআইনি উপায়ে অর্জিত সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী দু’ থেকে তিন দিন এই বাজেয়াপ্তকরণের কাজ চলবে।”

এ বিষয়ে হুমায়ুন কবিরের মেয়ে নাজমা সুলতানা বলেন, “আমার বাবার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমাকে ও আমার শ্বশুরবাড়িকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। বাবা যদি তাঁর মেয়েকে সম্পত্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত পরিবারে বিয়ে দেন, তা কোনও ভাবেই অন্যায় হতে পারে না।”


Share