Middle East Conflict

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তের হেঁসেলে সংকট, এক ধাক্কায় ১৪০ টাকা বৃদ্ধি পেল রান্নার গ্যাসের দাম

এইচপিসিএল-এর এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘অনলাইন, হোয়াটসঅ্যাপ সমেত মোট যে ছ’-সাত ধরনের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে রিফিল বুকিং করা যেত তার মধ্যে একটি বাদ দিয়ে সমস্ত প্ল্যাটফর্মে বুকিং নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৩৭

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তের হেঁসেলের খরচ বেড়তে চলেছে। সমস্ত জল্পনাকে সত্যি প্রমাণ করে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে তেল বিপণন সংস্থাগুলি দেশে ১৪.২ কেজি গৃহস্থ রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে কলকাতায় গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের ৮৭৯ টাকা থেকে ৯৩৯ টাকা হয়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি-র দামও এক ধাক্কায় ১১৪.৫০ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৯০ টাকা করা হয়েছে।

এমনিতেই রান্নার গ্যাস নিয়ে তীব্র সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিল। কিন্তু গুজবে কান না দিতে আমজনতার কাছে আবেদন জানিয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। এমনকি গুজবের জেরে সাধারণ মানুষ যাতে রান্নার গ্যাস ‘হোর্ডিং’ করা না শুরু করে তার জন্য একাধিক পদক্ষেপও করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসিএল), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (এইচপিসিএল) এবং ভারত গ্যাসের মতো সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সংস্থাগুলির তরফে।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা আইওসিএল-এর এক আধিকারিকের কথায়, ভারতের মতো দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার কথা ইরান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই পথে এলপিজি ভর্তি জাহাজ আসা নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছে। ঘুরপথে আমেরিকা থেকে গ্যাস আমদানি করলে তার জন্য যে খরচ বাড়বে, তার কথা মাথায় রেখে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম নিয়মিত বাড়লেও গার্হস্থ্য রান্নার গ্যাসের দাম দীর্ঘদিন বাড়ানো হয়নি। সর্বোপরি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘হোর্ডিং’ ঠেকাতেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর দাবি।

তবে, দেশে এই মুহূর্তে রান্নার গ্যাসের কোনও সঙ্কট নেই এবং সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। কলকাতায় আইওসিএল-এর এলপিজি হেড কৃষ্ণ মোহন ঠাকুর বলেন, ‘ইরান বনাম ইজ়রায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের ফলে দেশে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট হতে পারে বলে মানুষ অযথা আতঙ্কিত হচ্ছেন। আমাদের প্রতিটি বটলিং প্ল্যান্ট পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত এবং সেগুলি দিয়ে নিয়মিত প্ল্যান্টে গ্যাস আসছে। কাজেই রান্নার গ্যাস নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ দেখা যাচ্ছে না।’ তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুক করার প্রবণতা বাড়ছে বলে দেখা যাচ্ছে। সেই প্রবণতা ঠেকাতে একবার সিলিন্ডার পাওয়ার দিন থেকে ২১ দিন পরে ফের গ্যাস বুকিং-এর সুবিধে দেওয়া হচ্ছে।

তাঁর কথায়, ‘একসঙ্গে বহু মানুষ অযথা বুকিং শুরু করলে তখনই সমস্যা তৈরি হয়। আতঙ্কিত হয়ে গ্রাহকেরা যাতে গ্যাস হোর্ডিং করার পথে না হাঁটেন তা-ই এই ব্যবস্থা।’

তিনি জানান, উজ্জ্বলা যোজনা প্রকল্পের আওতায় যাঁদের কেওয়াইসি আপডেট রয়েছে, তাঁদের কাছে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেওয়াইসি আপডেট না থাকলে গ্যাস দেওয়া হবে না।

এইচপিসিএল-এর এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘অনলাইন, হোয়াটসঅ্যাপ সমেত মোট যে ছ’-সাত ধরনের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে রিফিল বুকিং করা যেত তার মধ্যে একটি বাদ দিয়ে সমস্ত প্ল্যাটফর্মে বুকিং নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। রিফিল বুকিং-এর নির্ধারিত নম্বরে গ্রাহকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিয়ে বুকিং করার পথ খুলে রাখা হয়েছে।’

ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থাগুলির কাছে এ মুহূর্তে কত দিনের সরবরাহ মজুত রয়েছে প্রশ্ন করা হলে এইচপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার আগরওয়াল বলেন, ‘আমাদের কাছে যে পরিমাণ সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ১০ দিন সাপ্লাই দেওয়া যাবে।’ এখন শুধুমাত্র সিঙ্গল সিলিন্ডারের জন্য নতুন আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে বলে সঞ্জয়ের দাবি।

এ বিষয়ে এইচপিসিএল-এর এক আধিকারিক বলেন, ‘আমরা সফ্টওয়্যারে ডিবিসি বা ডাবল বটল কানেকশনের অপশন আপাতত বন্ধ রেখেছি। কেউ আবেদন করার পরে কাগুজে প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে শুধুমাত্র একটি সিলিন্ডারের অপশনই দেখাবে।’

ইন্ডিয়ান অয়েলের ক্ষেত্রে যদিও এখনও ডাবল সিলিন্ডারের আবেদন নিয়ে সিস্টেমে কোনও বদল ঘটানো হয়নি বলেই জানিয়েছেন এলপিজি ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিজন বিশ্বাস।

এর মধ্যে কেন্দ্রের তরফেও বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের উৎপাদনের বদলে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের উৎপাদনে বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে। এর জন্য এসেনশিয়াল সার্ভিসেস মেন্টেন্যান্স অ্যাক্ট বা এসমা জারি করেছে কেন্দ্র।


Share