Murder Case

মুর্শিদাবাদের বন্ধ ঘরে মিলল একই পরিবারের চার সদস্যের দেহ, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নৃশংসভাবে খুন করার পর পরিবারের কর্তা আত্মঘাতী হন। দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬

মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে একটি ভাড়া বাড়ির বন্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে খুন করা হয়েছে। তারপর পরিবারের কর্তা নিজেই আত্মঘাতী হন।

নদিয়া জেলার বাসিন্দা মানিক ব্যাপারী। তবে গত প্রায় দশ মাস ধরে ভগবানগোলার স্বপনগড় মোড় এলাকায় ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। স্ত্রী দোলা ব্যাপারী ও দুই কন্যা তানহা(১৫) ও মায়েশা(৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকাতেই মানিকের একটি ফলের দোকান ছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁকে এলাকায় দেখা গিয়েছিল।

বুধবার সকালে বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল বলে জানান প্রতিবেশীরা। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হয়। ঘরের মেঝেতে রক্ত শুকিয়ে ছিল। কম্বল চাপা দেওয়া অবস্থায় স্ত্রী ও দুই কন্যার মৃতদেহ একসঙ্গে পড়ে ছিল।তিনজনেরই গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। একই ঘরে সিলিং থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মানিকের দেহ ঝুলতে দেখা যায়।

ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দিন দুয়েক আগেই স্ত্রী ও দুই কন্যাকে খুন করা হয়েছিল। দেহগুলি ঘরের মধ্যেই থাকায় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তদন্তকারীদের অনুমান, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত—এমন সন্দেহ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন মানিক। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


Share