Middle East Conflict

৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার উড়ে গেল ইরানের হামলায়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত একটি রাডার ও তার সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এই রাডারটি মার্কিন উচ্চস্তরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল।

ইরানের হামলার দৃশ্য
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৫১

আরব দুনিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের মাঝেই বড় ধাক্কা খেল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। এই রাডারটি ছিল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত একটি রাডার ও তার সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এই রাডারটি মার্কিন উচ্চস্তরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানের হামলায় সেটি অকেজো হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। পরে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তাও সেই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডার ধ্বংস হওয়া ইরানের অন্যতম সফল হামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের কাছে আরও কয়েকটি রাডার ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল কাজ হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সীমানার কাছাকাছি অবস্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা। এর ফলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকেও প্রতিহত করা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় এখন প্রতিরোধের দায়িত্ব তুলনামূলক কম দূরত্বে কাজ করা অন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর বেশি পড়তে পারে। সেই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও সীমিত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাত্র আটটি ইউনিট রয়েছে বলে জানা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং গুয়ামসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেগুলি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিট তৈরি করতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়, যার মধ্যে শুধুমাত্র রাডারটির মূল্যই প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার হারানো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা। কারণ এমন ব্যবস্থার অতিরিক্ত ইউনিট খুব বেশি সংখ্যায় হাতে নেই বলেও জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ইউনিট পরিচালনা করতে প্রায় ৯০ জন সেনা সদস্য প্রয়োজন হয়। এতে ছ’টি ট্রাকে বসানো উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, মোট ৪৮টি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি শক্তিশালী রাডার থাকে। প্রতিটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।

যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আগাম সতর্কতা রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে গবেষকদের দাবি। যদিও সেই রাডারের কাজ মূলত দূর থেকে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা, সরাসরি অস্ত্র পরিচালনা নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে আধুনিক প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


Share