Shoot Out

মাঠে খেলা নিয়ে বিবাদ, শিশুদের দিকে গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার প্রাথমিক শিক্ষক

বাড়ির দেওয়ালে বল লাগাকে কেন্দ্র করে শিশুদের দিকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০৯

খেলতে গিয়ে বাড়ির দেওয়ালে বল লাগায় বিপত্তি মুর্শিদাবাদে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের উদ্দেশ্যে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।  রঘুনাথগঞ্জ থানার বাণীপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

 পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সমীরকুমার মণ্ডল স্থানীয় ওমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্থানীয়দের দাবি, সমীরের বাড়ির পাশেই একটি বড় খোলা মাঠ রয়েছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও সেখানে দশ-বারো জন শিশু ক্রিকেট ও ফুটবল খেলছিল। খেলার সময় শিক্ষকের বাড়ির দরজা ও প্রাচীরে একাধিকবার বল গিয়ে লাগে। অভিযোগ, এই ঘটনাতেই সমীর উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত বাড়ির ছাদে উঠে যান। সেখান থেকে মাঠে থাকা শিশুদের দিকে নিজের এয়ারগান থেকে টানা পাঁচ-ছয় রাউন্ড গুলি চালান। হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, গুলির শব্দে শিশুরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এক শিশুর হাতে গুলি লাগে। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে। আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে আহত শিশুটি চিকিৎসাধীন। এক কিশোর জানায়, “আমরা খেলছিলাম। বল কয়েকবার তাঁর বাড়িতে লাগায় তিনি রেগে যান। আচমকাই ছাদ থেকে গুলি চালাতে শুরু করেন। আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরে দেখি আমাদের এক বন্ধুর হাতে গুলি লেগেছে।”

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। সমীরকুমার মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একটি আধুনিক এয়ারগান ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ত্রটির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, কলকাতা থেকে প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়েই এয়ারগানটি কেনা হয়েছিল।

পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় সমীর গুলি চালানোর কথা মেনে নেন। তবে তাঁর বক্তব্য,“আমি কারও দিকে তাক করে গুলি চালাইনি। ফাঁকা আকাশের দিকে ছুঁড়েছিলাম। কীভাবে ওই ছেলেটির গায়ে গুলি লাগল, বুঝতে পারছি না।” ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে স্থানীয় মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে।


Share