Unnatural Death

কান্দিতে অস্বাভাবিক মৃত্যু, আর্থিক অনটনে একইসাথে প্রাণ গেল মা ও ছেলের

প্রাথমিকভাবে মানসিক অবসাদ ও আর্থিক অনটনকে কারণ হিসেবে মনে করা হলেও, ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মা ও ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদাতা, কান্দি
  • শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৪

মুর্শিদাবাদের কান্দিতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় মৃত্যু হল মা ও তাঁর ছেলের। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে মানসিক অবসাদ ও আর্থিক অনটনকেই কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনও কারণ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম অভিজিৎ রায় (২৬) এবং তাঁর মা দোলন রায়। তাঁরা কান্দি থানার মাধুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিজিৎ জন্ম থেকেই মূক ও বধির ছিলেন। পরিবারের আর কোনও সদস্য ছিল না। তাই মা–ছেলেই ছিলেন একে অপরের একমাত্র ভরসা। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব দোলনদেবী সামলাতেন। পরিচারিকার কাজ করে কোনওরকমে তাঁদের দিনযাপন চলত। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের আর্থিক টানাপোড়েন চলছিল। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও মা গভীর দুশ্চিন্তায় থাকতেন।

অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে নিজের ঘরেই দোলনদেবী প্রথমে ছেলেকে কীটনাশক খাওয়ান। পরে নিজেও তা পান করেন। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাতেই আশপাশের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। ঘরে ঢুকে মা–ছেলেকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দোলন রায়কে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, অভিজিৎকে প্রথমে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এক প্রতিবেশী জানান, “ওদের বাড়িতে আর কেউ ছিল না। আমরা প্রতিবেশীরাই হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারপরই এমন দুঃসংবাদ পাই। খুব কষ্টের ঘটনা।” পুলিশ দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে কান্দির মাধুনিয়া গ্রামে নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরাই তাঁদের শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।


Share