Special Intensive Revision

ধর্মতলার ধর্নামঞ্চের নীচে পার্শ্ব শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ, মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী, ঘটনায় আটক অন্তত তিন জন

এক মহিলা বিক্ষোভকারী পার্শ্ব শিক্ষক বলেন, “আমরা কিছুই করিনি। আমরা আমাদের দাবি জানাতে এসেছিলাম। ১০-১২ হাজার টাকায় আমাদের সংসার চলছে না। আমরা আর পারছি না। আমাদের আর্তনাদ মুখ্যমন্ত্রী শুনতে পারছেন না। আমাদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করা হোক।”

বিক্ষোভকারীকে ধমক ধর্নামঞ্চে যোগ দিতে আসা তৃণমূল কর্মীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৭

এসআইআরে বিরুদ্ধে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ‍্যানেলের সামনে তিনি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এরই এক পর্যায়ে এক দল পার্শ্ব শিক্ষক তাঁদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান। আর তা দেখেই মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটা কোনও ব‍্যক্তিগত দাবি তোলার জায়গা নয়। এটা রাজনীতি করারও মঞ্চ নয়। ঘটনায় এক মহিলা-সহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় রন্থিদেব সেনগুপ্ত সবে বক্তব্য শুরু করেছেন। সেই সময় তিন থেকে চার জন আচমকাই মুখ‍্যমন্ত্রীকে দেখতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা নিজেদেরকে পার্শ্ব শিক্ষক বলে পরিচয় দেয়। তাঁদেরকে এমন কাজ করতে নিষেধ করা হলেও তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। আসরে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদেরকে এমনটা না করার জন্য অনুরোধ করেন। বলার পরেও তা বন্ধ না হওয়ায় মেজাজ হারান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “শুনুন আপনারা অনুষ্ঠানে এসেছেন, শান্তভাবে থাকতে পারলে থাকবেন। এটা কারও কোনও দাবি তোলার জায়গা নয়।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় এসআইআর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচি কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। তিনি বলেন, “এটা একমাত্র এসআইআরের দাবি, ভোটাধিকারের দাবি। এই মঞ্চ ব‍্যক্তিগত দাবি তোলার জায়গা নয়। রাজনীতি করবেন না।যারা রাজনীতি করছেন, তাঁদের আমি বলব দোহাই। এখন মানুষ মারা যাচ্ছে, তাই রাজনীতি করার যায়গা নেই।”

মমতার অভিযোগ, পার্শ্ব শিক্ষকেরা রাজ্যের প্রধান দল বিজেপির কথায় করেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপির কথায় এ সব করবেন না। জায়গাটা খোলামেলা আছে। তাই বলে এটা ভাববেন না যে যা খুশি করা যাবে। যে কোনও মানুষ এখানে আসতে পারে। যারা আসবেন তাঁরা সম্মান নিয়ে আসবেন।”

ধর্নামঞ্চের উল্টোদিকেই সাংবাদিকদের জন‍্য জায়গা করা হয়েছে। এর পরেই বিক্ষোভকারীরা সংবাদিকদের দেখে নিজের দাবি জানাতে থাকেন। এর জেরে আরও মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমকে দেখানোর জন‍্য (আপনারা এটা করছেন)? সেটা তো আপনারা বাইরে অন‍্য জায়গায় গিয়ে দেখাতে পারতেন!”এর পরেই প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আক্রমণ করেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ‍্য করে বলেন, “যান মোদীকে গিয়ে দেখান যান। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকে গিয়ে দেখান। আর ভ‍্যানিশ কুমারকে গিয়ে দেখান যান।” তার পর মুখ্যমন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের ধর্নামঞ্চের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন‍্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। বলেন, “আমি পুলিশকে বলব, ওঁদের আস্তে আস্তে কোনও জায়গায় বসিয়ে দিন।”

বিক্ষোভকারীদের ভিডিয়ো করতে গেলেও সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করছেন, ধর্নামঞ্চের সামনে যে সমস্ত সংবাদমাধ্যম ভিডিয়ো করছে তাঁরা বিজেপি মনোভাবাপন্ন। তাঁদের ‘গদি মিডিয়া’ বলে দাগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে সমস্ত মিডিয়া ওদের ছবি তুলছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের একটা আবেদন থাকবে, এটা একটা বড় অধিকার রক্ষার লড়াই। নিজের (সাংবাদিককা) স্বার্থে করতেই পরেন। বিজেপি মনোভাবাপন্ন গদি মিডিয়া করতেই পারেন। তবে আপনাদের আলাদা ভাবে করতে হবে।”

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মঞ্চের নীচেই কয়েক জন তৃণমূলকর্মী তাঁদের বেধড়ক মারধর করেছে। এদের মধ্যেই এক বিক্ষোভকারীকে ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডের মোড়ে ঘিরে ধরে কয়েক জন তৃণমূল কর্মী। পুলিশের সামনেই তাঁকে মারতে উদ্যত হয়। সাংবাদিককে ভিডিয়ো করতে গেলেও বাধা দেওয়া হয়েছে। মার খাওয়ার ভয়ে ওই বিক্ষোভকারী পার্শ্ব শিক্ষক তৃণমূলকর্মীর পা ধরে ক্ষমা চাইতেও দেখা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে।

এক মহিলা বিক্ষোভকারী পার্শ্ব শিক্ষক বলেন, “আমরা কিছুই করিনি। আমরা আমাদের দাবি জানাতে এসেছিলাম। ১০-১২ হাজার টাকায় আমাদের সংসার চলছে না। আমরা আর পারছি না। আমাদের আর্তনাদ মুখ্যমন্ত্রী শুনতে পারছেন না। আমাদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করা হোক।” হট্টোগোলের মধ‍্যেই রন্থিদেব সেনগুপ্তকে আবার বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


Share