Beldanga Incident

বেলডাঙায় পাঁচ ঘন্টা ধরে তান্ডব চলার পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবশেষে উঠল অবরোধ, চালু হল যান চলাচল, অশান্তিতে জখম ১২ জন

ঘটনাস্থলে যান মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। পরে সেখানে যান জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তার পরেই পাঁচ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বেলডাঙার অশান্তি জখম ১২ জন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:৫১

যুবকের রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। রেল এবং সড়কপথ অবরোধ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গেও চলে বচসা। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা তান্ডবের পরে পুলিশের মধ‍্যস্থতায় অবরোধ উঠে গিয়েছে। অশান্তিতে ১২ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে। জখমদের মধ্যে বেশ কয়েক জন সাংবাদিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতের নাম আলাউদ্দিন শেখ। শুক্রবার সকালে তার দেহ নিয়ে আসা হয়। এর পরেই স্থানীয়েরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে। তাদের মধ‍্যে বেশিরভাগই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ভিনরাজ‍্যে কাজে গিয়ে যুবককে পিটিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝাড়খন্ডের ঘটনায় স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কি না তা পরিবার স্পষ্ট করেনি।

শুক্রবার সকাল থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু হয়। এর জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মহেশপুরে রেল লাইনে বাঁশ ফেলে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। এর জেরে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আপ এবং ডাউন লাইনে একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন-সহ লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকে। পরে পৌঁছোন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।

কিন্তু তাতেও অশান্তি থামেনি। ট্রেন লক্ষ‍্য করে ছোড়া হয় পাথর। রাস্তার পাশে ট্রাফিক পুলিশের কিয়স্ক ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়ছে। ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে। ছোড়া হয়েছে পাথর। সংবাদমাধ্যম সেখানে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়। এক সাংবাদিক গুরুতর জখম অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। একটি টিভি চ্যানেলের মহিলা সাংবাদিককেও মারধর করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এমনকী, পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলেও, তা পাননি বলেও অভিযোগ করছেন।

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সমাজমাধ‍্যমে লিখেছেন, “তিন ঘন্টা ধরে বেলডাঙার জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। জোর করে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে। গোটা এলাকাটি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দখলে চলে গিয়েছে।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, “এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। খাদ্য ও পানীয় জল ছাড়া তাঁদের থাকতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের কোনও আশা দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের তৎপরতার কোনও চিহ্ন সেখানে নেই।” তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি যান। তিনি সকলকে শান্ত থাকার আর্জি জানান। তিনি বলেন, “বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে আপনারা জানেন... আমি বলব, শান্তি বজায় রাখুন, কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। শুক্রবার ওঁদের জমায়েত হয়। চিরকালই হয়। আমাদের দুর্গাপুজো, শিবরাত্রিতেও জমায়েত হয়। আমি কি বারণ করতে পারি? ওঁদের ক্ষোভ সঙ্গত। আমি বলব, আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী। শান্তি বজায় রাখুন। সাংবাদিকদের মারধর করবেন না।’’

ঘটনাস্থলে যান মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। পরে সেখানে যান জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তার পরেই পাঁচ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


Share