Border Clash

কোচবিহারের বালি পাচার রুখতে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানের ওপরে হামলার অভিযোগ বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছোড়া হল গ্রেনেড, ভাইরাল ভিডিয়ো

প্রশান্তের কথায়, "নদীটা তো ভারতের। ভারতের নদী থেকে এ ভাবে প্রতিনিয়ত বালি-পাথর তুলে নিয়ে গেলে নদী তো পাড়ের দিকে চলে আসবে। তাতে আমাদের বিপদ বাড়বে। বিএসএফ যদি সজাগ থাকে, যদি কড়া ব্যবস্থা নেয়, আমাদের সুবিধা হয়। নদীটাও বাঁচে।"

মেখলিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে অশান্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০১

কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মেখলিগঞ্জের সীমান্তের সানিয়াজান নদীতে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা নদী থেকে বালি পাচার করছিল। সেই কাজেই বাধা দিতে গেলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ‍্য করে হামলা চালানো হয়। পাল্টা গ্রেনেড ছোড়ে জওয়ান। সমাজমাধ‍্যমে সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তাতে যাতে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। অকথ‍্য ভাষায় গালিগালাজ করতেও শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের। যদিও বিএসএফ-এর তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় মেখলিগঞ্জের বুড়িমারি সীমান্তে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ওপারের বাংলাদেশের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তের পিলার নম্বর ৮৩৭/৪এস বলে সূত্রের খবর। সন্ধ্যা নামার কিছু আগে বাংলাদেশের কিছু দুষ্কৃতী ভারতীয় সীমান্তের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সানিয়াজান নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি পাচার করা হচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে বিএসএফ জওয়ানরা সেখানে পৌঁছোয়। তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তার পরেই বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা জওয়ানদের ওপরে লাঠি নিয়ে চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি গ্রেনেড ছোঁড়ে বিএসএফ জওয়ান। শূণ‍্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলেও কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দাপট রয়েছে। ভারতীয়দের জমি থেকে ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া থেকে নদী থেকে বালি পাচার চলছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। বাধা দিতে গেলে বিএসএফের ওপর হামলা চালায়। তবে গতকাল পাল্টা প্রত‍্যাঘাত করে বিএসএফ।

যদিও বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের তরফে এখনও এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন। এলাকার বাসিন্দা প্রশান্তকুমার রায় বলেন, “মোটামুটি ৪০-৫০ জন দুষ্কৃতীরা এসে নদী থেকে বালি খনন করছিল। পাথর তুলছিল। জওয়ানেরা এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও মানেনি ওরা। বরং বিএসএফ জওয়ানদের ওপরে অতর্কিতে হামলা চালায়। এর পর এক রাউন্ড গ্রেনেড ফায়ার করে বিএসএফ। তার পরেই সরে যায় ওরা।”

প্রশান্তের কথায়, "নদীটা তো ভারতের। ভারতের নদী থেকে এ ভাবে প্রতিনিয়ত বালি-পাথর তুলে নিয়ে গেলে নদী তো পাড়ের দিকে চলে আসবে। তাতে আমাদের বিপদ বাড়বে। বিএসএফ যদি সজাগ থাকে, যদি কড়া ব্যবস্থা নেয়, আমাদের সুবিধা হয়। নদীটাও বাঁচে।" 

বিএসএফ সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে এড়ানো যায় তার জন‍্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


Share