Rape and Murder

জলসা দেখতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না! গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে উদ্ধার বিবস্ত্র দেহ

তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। রবিবার ভোরে এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে ওই ছাত্রীর বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৩ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইঘাটা
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৬

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে বাড়ির অদূরে একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল ওই ছাত্রী। অভিযোগ, রাতের দিকে একটি ফোন আসার পর জলসা ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে। তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। রবিবার ভোরে এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে ওই ছাত্রীর বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৩ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে বনগাঁ আদালতে পেশ করার কথা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৮টা নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে জলসা দেখতে গিয়েছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের সদস্যদের। রবিবার ভোর ৫টা নাগাদ মেয়ের দেহ পড়ে থাকার খবর পান তাঁর মা। ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের দেহের অবস্থা দেখে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ তোলেন তিনি। ছাত্রীর মায়ের দাবি, মেয়ের নাক-মুখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল এবং ঠোঁট ফুলে গিয়েছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নামে গাইঘাটা থানার পুলিশ। বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানান, রবিবার সকাল ৬টা নাগাদ এলাকায় এক ছাত্রীর দেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। এর পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রবিবারই ছাত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। পাশাপাশি, ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-এর দলকে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য ডাকা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।

ছাত্রীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার জানান, ময়নাতদন্তের পরেই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব। ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং ধৃত যুবকের সঙ্গে ছাত্রীর কী সম্পর্ক ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


Share