Kolkata Municipal Corporation

২৮ অক্টোবরের মধ্যে পুজোর বিজ্ঞাপন সরাতে সময়সীমা দিল কলকাতা পুরসভা, অন্যথায় জরিমানা দিতে হতে পারে তিন গুণ

আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সব অস্থায়ী বিজ্ঞাপন সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থাকে বিজ্ঞাপন ফির তিন গুণ জরিমানা করা হতে পারে।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:১৭

পুজো শেষ। কিন্তু শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে এখনও রয়ে গিয়েছে পুজোকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন, ব্যানার ও হোর্ডিং। কোথাও বিজ্ঞাপন খুলে নেওয়া হলেও সরানো হয়নি বাঁশের কাঠামো। কোথাও আবার রাস্তার রেলিংয়ে ঝুলছে পুজোর ব্যানার। এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন এবং সেগুলি লাগানোর কাঠামো সরিয়ে ফেলার জন্য কলকাতা পুরসভার তরফে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে জরিমানার পদক্ষেপ করা হবে বলে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পুজোর সময় শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বাঁশের কাঠামো তৈরি করে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন লাগানো হয়। পুজো মিটে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই বিজ্ঞাপন ও কাঠামো খুলে ফেলার নির্দেশ দেয় পুরসভা। গত কয়েক বছর ধরে এই নিয়ম কার্যকর করতে কলকাতা পুরসভা কড়া অবস্থান নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞাপন না সরানোর কারণে অতীতে একাধিক সংস্থাকে জরিমানাও করা হয়েছে। এ বছরও একই নির্দেশ জারি করে পুরসভা জানিয়েছে, বিজয়া দশমীর সাত দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত অস্থায়ী পুজোর বিজ্ঞাপন খুলে ফেলতে হবে।

পুরসভার নির্দেশের পর শহরের বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপন সরানোর কাজ হয়েছে। শ্যামবাজার, খান্না, হাতিবাগান, মানিকতলা, কাঁকুড়গাছি, উল্টোডাঙা, শিয়ালদহ, বেলেঘাটা, ইএম বাইপাস এবং মৌলালির একাংশে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন সরানো হয়েছে। তবে সব জায়গায় এখনও কাজ শেষ হয়নি। কালীঘাট, ভবানীপুর, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ ও রানিকুঠির মতো এলাকায় এখনও পুজোকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে।

আবার গড়িয়াহাট ও উল্টোডাঙা মেন রোডের মতো কিছু জায়গায় হোর্ডিং খুলে নেওয়া হলেও বাঁশের কাঠামো রয়ে গিয়েছে। রাসবিহারী, ফুলবাগান, কাঁকুড়গাছি, হাজরা ও বালিগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তায় রেলিংয়ে এখনও ঝুলছে পুজোর ব্যানার। গড়িয়া, গোলপার্ক, ঢাকুরিয়া ও খান্নার মতো এলাকায় রাস্তার ধারে ‘নো এন্ট্রি’ লেখা গার্ডরেলও দেখা যাচ্ছে।

পুরসভার আধিকারিকদের মতে, জরিমানার আশঙ্কায় অনেক বিজ্ঞাপন সংস্থা ও পুজো কমিটি ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল হোর্ডিং ও বিজ্ঞাপনের কাঠামো খোলার কাজ অনেক জায়গায় শেষ হয়েছে। তবে যাঁরা এখনও নির্দেশ মানেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সাধারণত বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলিকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত দু’দিন সময় দেওয়া হয়। তবে এ বছর সেই বাড়তি সময় দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুরসভার নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনের নির্ধারিত ফির তিন গুণ জরিমানা করা হতে পারে। ২৮ অক্টোবরের পর শহরের যেসব এলাকায় এখনও অস্থায়ী বিজ্ঞাপন ও কাঠামো রয়ে যাবে, সেগুলি সরাতে পুরসভা পদক্ষেপ করবে।


Share