Manoj Kumar Agarwala

মালদহে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা! মাত্র ৭৫০ মিটার দূরে গঙ্গা-ফুলহার, ৬-৭ বছরের মধ্যে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা

বিপদের মুখে পড়তে পারে রেললাইন ও জাতীয় সড়কও। রবিবার মালদহের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এমনই উদ্বেগের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০২:১০

মালদহের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। গত ৫০ বছরে প্রায় ৬ কিলোমিটার গতিপথ পরিবর্তন করেছে গঙ্গা। বর্তমানে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর মধ্যে দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে ৭৫০ মিটারে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে দুটি নদী মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেমনটা হলে মালদহ শহর থেকে রতুয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপদের মুখে পড়তে পারে রেললাইন ও জাতীয় সড়কও। রবিবার মালদহের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এমনই উদ্বেগের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

এ দিন গঙ্গা, ফুলহার ও কোশি নদীর গতিপথ খতিয়ে দেখেন মুখ্যসচিব। অতীতে নদীগুলি কোন পথে প্রবাহিত হত এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে তাদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। নদীগুলির এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়।

সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব জানান, এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা রাজ্য সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য ঝাড়খণ্ড ও বিহার সরকারকেও সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। তাঁর কথায়, প্রথমে সমস্যার সমাধানের উপযুক্ত পথ খুঁজে বের করা জরুরি। অর্থের সংস্থান নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর এ বার মালদহের ভূতনি এলাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে মালদহে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন কানপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, ভূতনির সমস্যা মোকাবিলায় উপযুক্ত পথ খুঁজতে ইন্ডিয়ান রিভার ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমশ কাছাকাছি চলে আসা এবং গঙ্গার গতিপথের পরিবর্তনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে। সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে নদীগুলির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করাই এখন রাজ্য সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।


Share