Restaurant License Cancelled

সল্টলেকের রেস্তরাঁ থেকে ‘পচা মাংস’ উদ্ধার, বল্লে বল্লে ধাবার লাইসেন্স বাতিল, অভিযোগ অস্বীকার মালিকের

ভাস্কর দেব বলেন, “বাবা কী ছিলেন, তাতে যাব না। বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে যদি থাকতাম তা হলে তো খেটে কিছু করতাম না। সিপিএমের সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সমর্থক ছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সমর্থক ছিলাম। আমিও বিজেপি ভালো কাজের সমর্থক। বাজে কাজের সমর্থক নই।”

সল্টলেকের বল্লে বল্লে ধাবা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২২

সল্টলেকে সিটি সেন্টার ওয়ান এর সামনে ‘বল্লে বল্লে’ ধাবায় বিধাননগর পুরসভার ফুট সেফটির অফিসারেরা অভিযান চালায়। দাবি, সেখানে ছত্রাক সংক্রমিত মাংস রাখা ছিল। সেইগুলি ফ্রিজের ভিতরেই রাখা ছিল। এ ছাড়াও, দুধের যেসব পণ‍্য রাখা ছিল সেগুলোর মেয়াদও ফুরিয়ে গিয়েছে। এর জেরে লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে পুরসভা। যদিও রেস্তোরাঁ মালিকের দাবি, সেখানে কোনও পচা খাবার রাখা ছিল না। সমস্ত খাবারের তারিখ উল্লেখ করা ছিল। তাঁর বক্তব্য, রেস্তোরাঁর রান্নাঘর পুনর্বীকরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ মেনে যথাযথ পদক্ষেপ তাঁরা করছেন বলেও মালিক দাবি করেছেন।

ফুড সেফটি বিভাগ সূত্রের খবর, এর আগেও এই রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তারা সতর্ক না হওয়ায় অভিযান চালায় আধিকারিকেরা। অভিযান চালানোর পরে বল্লে বল্লে ধাবা বন্ধ করে দেয়া হয়। রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়। বল্লে বল্লে ধাবার মালিক ভাস্কর দেবের বক্তব্য, “এখানে যাঁরা খেতে আসেন তাঁদেরকে পচা খাবার দিলে পরের বার আর কেউ এখানে আসত না। আমরা কখনও পচা খাবার রাখি না।”

সল্টলেকের সিটি সেন্টারের এই রেস্তরাঁয় রাজ‍্যের প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্দাও মাঝেমধ‍্যে খেতে আসেন। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও রেস্তোরাঁর মালিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে শোনা যায়। এই বিষয়ে রেস্তোরাঁর মালিক ভাস্কর দেবের বক্তব্য, অশোকবাবু অনেক দিন থেকেই এই রেস্তোরাঁয় খেতে আসেন। এখানে এসেই তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। তিনি বলেন, “পচা খাবার দিলে তো এমনটা হত না।”

তবে রেস্তোরাঁ বন্ধকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছেন ভাস্কর দেব। ভাস্কর দেবের বাবা মঞ্জুলাল দেব ওই এলাকার সিপিএমের জোনাল কমিটির সম্পাদক ছিলেন। ভাস্কর বলেন, “বাবা কী ছিলেন, তাতে যাব না। বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে যদি থাকতাম তা হলে তো খেটে কিছু করতাম না। সিপিএমের সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সমর্থক ছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সমর্থক ছিলাম। আমিও বিজেপি ভালো কাজের সমর্থক। বাজে কাজের সমর্থক নই।” তাঁর কথায়, রাস্তায় নোংরা-আবর্জনার ওপরে যে ধাবাগুলি তৈরি হয়েছে সেগুলো পরিষ্কার বলে সরকার মনে করছে। উল্টোদিকে রেস্তোরাঁর খাবারকে নোংরা বলে মনে করছে তাঁরা।

রাজ্যের একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁয় অভিযান চালায় পুরসভা, খাদ্য সুরক্ষা দফতর। পচা খাবার বিক্রির অভিযোগে টন টন খাবার ফেলে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পুজোর আগে শহরের একাধিক বড় রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা পুরসভা। শহরবাসীর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দফতর জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বেআইনি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে কলকাতার প্রায় ৪০টি খাদ্য বিপণির লাইসেন্স বাতিল করে তালিকা প্রকাশ করেছিল পুরসভা।

এ বার পচা খাবার বিক্রির অভিযোগে সল্টলেকের নামী রেস্তরাঁ বল্লে বল্লে ধাবার লাইসেন্স বাতিল করল পুরসভা খাদ্য সুরক্ষা দফতর। যদিও রেস্তরাঁ মালিক ভাস্কর দেবের দাবি, তিনি লাইসেন্স বাতিলের কোনও নোটিশ পাননি। তাঁর রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে পুনর্বীকরণ করতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেই নোটিসে কোনও পচা মাংসের কথা উল্লেখ নেই বলেই তিনি দাবি করেছেন। তবে সরকারের নির্দেশ মেনেই তিনি রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পুনর্বীকরণ করার চেষ্টা করছেন। যতটা দ্রুত সম্ভব তা তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে জানান ভাস্কর দেব।


Share